খুলনায় দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে একাধিক সাইবার ক্রাইম চক্র। এবার নগ্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের হোতা দম্পতিকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-৬ এর সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-৬ খুলনার লবণচরাস্থ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিং করেন স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, নগরীর ছোট বয়রাস্থ করিম নগর এলাকার মৃত কাজী আব্দুর রউফের ছেলে কাজী আব্দুল মুনিম (৩৭) এবং তার স্ত্রী তানজিলা হাসান ঝুমা (২৪)। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইন্টারনেটের পাঠানো কাগজপত্রের ৪০ পাতা ফটোকপি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন কোম্পানির ১৩ টি সিম, একটি মেমোরি কার্ড ও মোবাইল ফোন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, একটি প্রতারক চক্র প্রায় চার বছর আগে ওয়াজেদ আলী নামক ব্যক্তিকে ব্যবসায়িক কাজের কথা বলে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আলী ক্লাবের মোড়ে একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলার রুমের মধ্য নিয়ে যায়। সেখানে একটি মেয়েকে দিয়ে আপত্তিকর ছবি এবং প্রায় ২০ মিনিটের ভিডিও ধারণ করে অপরাধচক্র।

পরে ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেয়। ওই চক্রকে এ টাকা দেওয়ার কথা বলে ওয়াজেদ আলীর ভায়রার ছেলে কাজী আব্দুল মুনিম তার কাছে থাকা চেকবই জোরপূবর্ক স্বাক্ষর করিয়ে ব্যাংক থেকে এ টাকা তুলে নেয়। এর কিছুদিন পর ওয়াজেদ আলীর পুত্র মো. তৌহিদুজ্জামান সুমনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আদায় করে। এছাড়া ভিকটিম ওয়াজেদ আলীর স্ত্রীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকেও নেওয়া হয় আরো ২০ লাখ টাকা। এভাবে ব্ল্যাক মেইল করে এ পরিবারটির কাছ থেকে তিন দফায় মোট ৩০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর ওই প্রতারক চক্র আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরিবারটি বার বার টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে আরো ২০ লাখ টাকা দিলে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে বলে রেশমা নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্য তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর তাদের দেওয়া দু’টি বিকাশ নম্বরে দুই দফায় আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করতে থাকে। এছাড়াও তারা ওয়াজেদ আলীর পুত্রবধূ শ্রাবণীর ফেইস বুকে অশালীন ভাষা এবং আপত্তিকর ছবি আপলোড দিয়ে ভিডিও ইউটিউবে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে।

এ ঘটনায় ওয়াজেদ আলী বাধ্য হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। র‌্যাব কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, ডায়েরির কপিসহ র‌্যাব-৬ খুলনার নিকট অভিযোগ দাখিল করা হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিকাশ অথরিটির সহায়তায় বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে পুরো ঘটনার সঙ্গে ওয়াজেদ আলীর ভায়রার ছেলে কাজী আব্দুল মুনিম ও তার স্ত্রী তানজিলা হাসান ঝুমার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এরপরই সোমবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন দফায় মোট ৩০ লাখ ৪২ হাজার টাকা গ্রহণ ও স্থায়ী সমস্যা সমাধানের নামে আরো ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তবে, এছাড়াও তাদের সঙ্গে আরও ১০-১২ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনসহ দণ্ডবিধি আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।