ইয়েমেনে শিশুদের বহনকারী বাসে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বর্বরোচিত বিমান হামলায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু অধিকার কমিটি (ইউএনসিআরসি)। অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর জোটের বিমান হামলা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছে তারা।বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) ইউএনসিআরসির এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। গত আগস্টে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশে একটি স্কুলবাসে সৌদি জোট ওই বিমান হামলা চালায়। এতে নিহত হয় ৫১ জন, এদের মধ্যে ৪০ জনই শিশু।

এই ইস্য্যুত নিন্দার ঝড় ওঠে পুরো বিশ্বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সৌদির কাছে স্বাধীন তদন্তের আহ্বানের প্রেক্ষিতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।ইউএনসিআরসির বিবৃতিতে বলা হয়, স্কুলবাসে বোমা হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব-সংযুক্ত আরব আমিরাতের জোট যে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটির প্রক্রিয়াই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

জাতিসংঘ শিশু অধিকার কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ক্লারেন্স নেলসন সাংবাদিকদের বলেন, হামলায় প্রায় ২০ শতাংশ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। যাদের প্রতি পাঁচজনে একজনের বয়সই ১৮ বছরের নিচে। শিশুর সংখ্যাটা অনেক। এসব বিবেচনায় অবিলম্বে আমরা তাদের এই বিমান হামলা স্থগিত রাখতে বলেছি।জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি জোটের হামলায় ২০১৫ সালের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে অন্তত ১ হাজার ২৪৮ শিশু।

ইয়েমেনে শিয়া-সুন্নি সম্প্রদায় ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়ালে সেখানে নিজেদের অনুগত প্রেসিডেন্টকে রক্ষায় সামরিক অভিযানে যায় সৌদি আরব। কিন্তু অভিযানের শুরু থেকেই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় বারবার অভিযুক্ত হয়ে আসছে ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের বাহিনী। এমনকি এ নিয়ে তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিবৃতি দিয়েছেন।