সেফটি রিসন ইন প্লেস বলে একটি কথা আছে, সে বিষয়ে কি আমরা সবাই সচেতন? পৃথিবীর উন্নতম দেশ গুলোতে কন্সট্রাকশন থেকে শুরু করে সব ধরণের ইন্ডাস্ট্রিতে এ বিষয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সর্বত্র কন্সট্রাকশনের কাজ চলছে অথচ সরকার বা সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে কতটুকু সচেতন? আর কেউ বিষয়টি নিয়ে না ভাবলেও আমার বন্ধু সামসুদ্দিন সুমি (IEB, Fellow) কিন্তু এই বিষয়ে বেশ চিন্তিত। সে নিজে একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং তার ভাবনা থেকে সে এমনটি বর্ণনা করেছে। “ আমার মনে পাপ বোধের সৃষ্টি হয় যখন দৈনিক পত্রিকাগুলিতে নির্মাণ শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর দেখতে পাই। কয়েকদদিন আগে খবর দেখলাম ম্যানহোলের মধ্যে কাজ করতে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ম্যানহোলের ভিতরে কার্বন মনোক্সাসাইডসহ বিষাক্ত গ্যাস তৈরী হতে পারে, তাই ম্যানহোলের ঢাকনা খুলেই নেমে পড়া কত বিপজ্জনক তা এই শ্রমিক ভাইয়েরা জানতেন না। ম্যানহোলের ঢাকনা খোলার অনেক সময় পর অথবা কৃত্রিম ভাবে বাতাস প্রবাহিত করার পর নামলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। উচু বিল্ডিঙের কাজ, বিদ্যুতের কাজ, আগুন নেভানোর প্রাথমিক কাজ ইত্যাদি ব্যাপারে একটা একদিনের বাধ্যতামূলক ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করলে শ্রমিকেরা যেমন নিজের দুর্ঘটনার কবলে পড়ার থেকে বেঁচে যেতে পারবে ঠিক তেমনি নির্মাণ কাজের আশেপাশের মানুষের হঠাৎ ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কবল থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারবে।বেশ কয়েক বছর আগে আমি মগবাজার ইস্কাটনে প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটার সময়ে আমার মাথার একটু সামনে একটা বড় ইটের টুকরো এসে পড়ল। সম্ভবত যা ছিলো পাশের নির্মাণাধীন দশ তালা বিল্ডিং এর উপর থেকে। মাত্র একটি পায়ের স্টেপ বেশি হলে আমার মাথার উপর ওই টুকরা পড়লে অনেক আগেই আমার সব শেষ হতো”।

আমাদের চারপাশে এই রকমের অনেক মৃত্যুর ফাঁদ আছে যার একটা বড় কারণ নির্মাণ শ্রমিকদের অসচেতনা, যা তাদেরকে বাস্তবতার নিরিখে কেউ কখনো তার নিজের বা অন্যের বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কখনো আলোচনা করেনি। রাজধানী শহরের উন্নয়নে নির্মাণ কাজের পরিমাণ কয়েক শত গুণ বাড়বে আগামী বছর গুলোতে, তাই সব নির্মাণ শ্রমিকদের একদিনের একটি নির্মাণ নিরাপত্তা কোর্স করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে যেখানে শ্রমিকেরা ভিডিও, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রের ব্যবহারে সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এই রকম একটি সেফটি ট্রেনিং কোর্স বাধ্যতামূলক পৃথিবীর অনেক দেশেই দেওয়া হয়ে থাকে, যেখানে সবাই একদিনের এই কোর্সে অংশ গ্রহণ করে এবং তাদেরকে নিরাপত্তা গ্রীন কার্ড দেওয়া হয় এবং এই কার্ড ছাড়া কেউকে কোন কন্সট্রাকশন সাইটে ঢুকতে দেওয়া হয় না। এই গ্রীন কার্ড পাঁচ বছর মেয়াদী। যার ফলে,পাঁচ বছর পরে তার আবার এই কোর্স করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। এই ভাবে সেফটি ইন প্লেসের নিশ্চয়তা করা খুবই দরকার, নিজের ও অন্যের সার্থে। দেশের সকল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি নৈতিক এবং মানবিক দায়িত্ব হচ্ছে এই রকম একটি কোর্সের আয়োজন করা এবং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা। বন্ধু সামসুদ্দিনের এই মহান উদ্বেগের পাশে দাড়াতে দেশের সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, একই সাথে দেশের প্রতিটি স্তরে দেখতে চাই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার, সঙ্গে লিখিত “standard operating procedure (SOP) is a set of step-by-step instructions compiled by an organization to help workers carry out complex routine operations. SOPs aim to achieve efficiency, quality output and uniformity of performance, while reducing miscommunication and failure to comply with industry regulations.” স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে সর্বত্যে দৈনিক শিক্ষার সমন্বয়ে সেফটি ইন প্লেস চালু করা হোক। শুধু দেশ ও জাতির স্বার্থে নয় নিজের স্বার্থে আসুন নিয়ম মেনে চলি।

আমি রহমান মৃধা দূরপরবাস সুইডেন থেকে।