রাজধানীর উপকণ্ঠে পোস্ত গোলায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর টোল নিয়ে বিক্ষোভরত পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত চারজন। নিহত শ্রমিকের নাম মো. সোহেল (২৮)।শুক্রবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

টোলের হার বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা শুক্রবার সকালে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ সেখানে যায়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়লে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, পুলিশের গুলিতে তিনি হয়েছেন। পুলিশ দাবি করেছে, শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ চারজনের মধ্যে আকাশ (২২) ও মাসুদ (৩০) নামের দুজন শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত সোহেলের লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।পুলিশ, ট্রাকচালক-শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতুটি ২১ অক্টোবর এ আলম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নেয়। পরদিন ২২ অক্টোবর টোলমুক্ত যাতায়াতের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। দাবি মেনে নিয়ে ইজারাদার মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশার জন্য সেতু টোলমুক্ত করে দেয়। এর পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে টোলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নামে ট্রাক চালক ও শ্রমিকেরা। তাঁরা জানান, আগে ৩৫ টাকা করে টোল দিতে হতো, নতুন ইজারাদার সেটা বাড়িয়ে ২৪০ টাকা করেছে।
দাবি আদায়ে আজ সকাল সাতটার দিকে সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় অবস্থান নেন ট্রাক চালক-শ্রমিকেরা। তাঁরা ট্রাক দিয়ে সেতুর মুখে বাধা সৃষ্টি করেন। এতে সড়কের দুই পাশে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়। সকাল নয়টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ এসে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকেরা পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। ওই সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকেরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রায় ৫০টি ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ট্রাক চালকের সহকারী শাওন বলেন, পুলিশের গুলিতে সোহেল ঘটনাস্থলেই মারা যান।নিহত সোহেলের বাবার নাম মোশাররফ হোসেন। সোহেল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার সোবহান মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সোহেলের শ্যালক তানজিল বলেন, সকালে তাঁর দুলাভাই বাসা থেকে নাশতা খেয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। পুলিশের গুলিতে তাঁর দুলাভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে দাবি করে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকেরা টোলমুক্ত আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। সে সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজামান বলেন, শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একটি কক্ষে পুলিশ আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও শ্রমিকেরা হামলা চালায় এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।ওসি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জন পুলিশ আহত হয়েছে। তিনি একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পুলিশ সেখানে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। আন্দোলনকারী ট্রাক চালক মিজানুর রহমান মাস খানিক আগেও ৩৫ টাকা করে টোল দিয়েছেন তাঁরা। নতুন ইজারাদার এসে ২৪০ টাকা টোল অন্যায়ভাবে আদায় করছে। তিনি বলেন, শুধু ট্রাক নয়, সব ধরনের যানবাহন মালিক শ্রমিকদের স্বার্থে এ আন্দোলন করছেন তাঁরা।সরকারি নিয়ম মেনেই টোল আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদার এ আলম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মো. আলম। তিনি বলেন, আমরা টোল বৃদ্ধি করিনি। সরকারি নিয়মে টোল বাড়ানো হয়েছে, আমরা সে অনুযায়ী আদায় করছি। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে সেতু ইজারা নেওয়া হয়েছে। টোল মুক্ত করার দাবি অযৌক্তিক। এটা মেনে নেওয়া যায় না।