সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সাত দফায় ছাড় না দিতে বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিকরা। তাদের বক্তব্য, খালেদা জিয়াকে ছাড়া, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ বহাল রেখে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না। সংলাপে এ সব বিষয়ে অনড় থাকার কথা দৃঢ়ভাবে বলেন জোট নেতারা। আজ বুধবার রাতে সংলাপের আগেরদিন রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে শরীক দলের শীর্ষ নেতারা এমন বক্তব্য দেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংলাপের অপরিহার্যতা রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের সংলাপে ২০ দলীয় জোটের শরীক শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে ভালো হতো। তবে এটা নিয়ে তাদের কারো মনে আপসোস নেই। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সাত দফা দাবি থেকে বিএনপি যেন পিছু না হটে।’

জামায়াতের প্রতিনিধি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘তারা বিএনপির ওপর আস্থাশীল। বর্তমান দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য তাদের এক দফা দাবি আদায়ে যা যা করার দরকার তাতে তার দলের সম্মতি রয়েছে।’ এ সময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোটের শরীকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘২০ দলীয় জোট যেখানে আছে, সেখানেই থাকবে। তাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক আগের থেকেও দৃঢ় হয়েছে। যা আগামীতেও থাকবে। কখনো কাউকে অবমূল্যায়ন করা হবে না।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন— কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ। বৈঠকে শরিকরা জানিয়েছে, আজকের অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারা। বৈঠকে ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা এবং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারে নিন্দা জানানো হয়।