২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এদিন সকালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই, কারণ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের অপকর্ম ঠেকাতে আমাদের যা যা করণীয় আমরা তাই করেছি। ফলে এই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হওয়া সম্ভব নয়। এবারের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। ঠিক আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কোনও সময় তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে।’ নির্বাচন কমিশন সব বার্ষিক পরীক্ষা ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ করার জন্য আহ্বান করেছেন। সিলেবাস অনুযায়ী, সব পর্যায়ের বার্ষিক পরীক্ষা ১০ তারিখের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।’

গতবারের মতো এবারও পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে ঢোকার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষাবোর্ডের তথ্যানুযায়ী, নবমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ পরীক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার ২ লাখ ১ হাজার ৫১৩ পরীক্ষার্থী বেড়েছে এ পরীক্ষায়। এর মধ্যে জেএসসিতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬ এবং জেডিসিতে ২৪ হাজার ৪৪৭ জন পরীক্ষা দেবে।

এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সাতটি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, আরবি, সংস্কৃত, পালি বিষয়গুলো এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়ণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের পর অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থী হলে ঢুকলে তার নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, দেরি হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্টারে লিখে ওইদিনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে কেন্দ্র সচিবকে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মোবাইল, মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যবহারের অনুমতিবিহীন যে কোনো ইলেকট্র্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।