আজ ১ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টায় গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে রাজনৈতিক সংকট-সংঘাত উত্তরণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে কার্যকর জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল; সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখ্তার; সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরউদ্দীন পাপ্পু, জুলহাসনাইন বাবুসহ কেন্দ্রীয় নেতা দীপক রায় প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র আরো দৃঢ় ও মজবুত হয়েছে। এই স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোই নির্বাচনের আগে দেশকে একটি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে সংবিধানের সংশোধন দরকার। সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্তগুলো নিয়ে সমঝোতা হওয়া দরকার। এ সমঝোতার জন্য জাতীয়ভাবে কার্যকর ও অর্থবহ সংলাপ অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জোনায়েদ সাকি আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু এই সংলাপ কতটা অর্থবহ হবে, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি উত্তরণে কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার ওপর। এছাড়া তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের আপত্তি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে আসন্ন নির্বাচনে। ইভিএম এর মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতির যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার তীব্র সমালোচনা করেন জোনায়েদ সাকি। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে রাজনীতি দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু নতুন দলগুলোর রাজনীতি বিকাশের পথকেই রুদ্ধ করা হচ্ছে না, সকল দলের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

কেননা পরপর দুইবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে যেহেতু নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে, এবং আগামী ৫ বছরে স্থানীয় নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণ করা যাবে না, ফলে এর মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক উপায়ে দলগুলোকে নির্বাচনে বাধ্য করা হচ্ছে।

সংবিধান এর মধ্য থেকে সমাধান প্রশ্নে জোনায়েদ সাকি বলেন, সংবিধানের মধ্য থেকেই সংবিধান সংশোধন সম্ভব। এখনও পর্যন্ত একটা সংসদ বহাল আছে, কাজেই সমঝোতা হলে, সদিচ্ছা থাকলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। জনগণের জন্যই সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়।