আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আরও ১০ উপদেষ্টা নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।বুধবার (৭ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে বসে লিখিত আকারে এ প্রস্তাব দেয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

ওই সূত্র মতে, ঐক্যফ্রন্ট চারটি পরামর্শ আকারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা’ তুলে ধরে সরকারের কাছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা নাকচ করে দিয়েছে। দলটি জবাবে বলেছে, এটা সংবিধান সম্মত নয়, এতে সাংবিধানিকশূন্যতা সৃষ্টি হবে। আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষের আবির্ভাব হতে পারে।এছাড়া, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক বন্দিদের জামিনে মুক্তি এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন দাবি পুনরুত্থাপন করেছে ঐক্যফ্রন্ট।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়ে তারা বলেছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গত প্রায় ২০ মাসে অনেক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করলেও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, সামর্থ্য ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সমাজে তাই বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে এর দায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের। তিনি নিজেই আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে সংশয় ব্যক্ত করেছেন। সেজন্য বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অন্ততঃ আংশিক পুনর্গঠন অত্যাবশ্যক।বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি কেএম নূরুল হুদা) সরে যাওয়ার দাবি তুলে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সিইসি পদে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি। সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে নতুন সচিবও নিয়োগ করা প্রয়োজন।

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের অবিলম্বে অন্তত জামিনে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ বা হ্যাকিংয়ের ফলে তথ্যপ্রযুক্তিগত অপরাধ ছাড়া বাক ও মতপ্রকাশের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত অপরাধের ব্যাপারে নির্বাচনকালীন সময়ে (ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত) মামলা দায়ের করা যাবে না।নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের রূপরেখায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। এদের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকার সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেবেন।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা সংলাপ বেলা ২টার দিকে শেষ হয়। সর্বশেষ খবর অন্যুায়ী, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি দাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরাম, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন—আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।