দুদকের দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আরেক দুর্নীতি মামলার শুনানিতে সংস্থাটির আইনজীবীকে নিয়ে টিপ্পনী কাটলেন।আট মাসের বেশি কারাবন্দি খালেদা জিয়া বুধবার পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে এসে এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এ রকম এজলাসে কোন বিচার হচ্ছে, আর কেনই বা এত দ্রুত বিচার শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে প্রশ্ন তুলে বিচারকের কাছে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।খালেদা জিয়া বলেন, বহু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে, যেগুলোর বিচার দ্রুত করা হয় না।নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যা মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৈ এই মামলার বিচারতো তাড়াতাড়ি করা হলো না?জনসন রোডের মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবন ও রেবতী ম্যানসনের এজলাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওখানেই তো স্বাভাবিক বিচার চলছিল। তবে এখানে বিচারের কী কারণ? এ মামলার বিচার স্বভাবিকভাবে হচ্ছে না। অস্বাভাবিক দ্রুততায় চালানো হচ্ছে।আদালত কক্ষে তার আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিয়েও অসন্তোষ জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

পুলিশ সিকিউরিটির কথা বলে কেন আমার এত কাছাকছি অবস্থান নেয়? তাদের কারণে আমি আইনজীবীদের দেখতে পাই না। তাদের কথা শুনতে পারি না। পুলিশ প্রবেশপথে থাকুক, এজলাসে নয়।
শুনানির এক পর্যায়ে তার অন্যতম আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রতিপক্ষ দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলকে কটাক্ষ করে বলেন, তাকে প্রতিমন্ত্রী করে এ মামলা পরিচালনার পুরস্কার দেবে আওয়ামী লীগ।তার কথা টেনে খালেদা জিয়া বলেন, না, তাকে ফুল মন্ত্রী করে দেবে।তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজল তার উদ্দেশে বলেন, ম্যাডাম, আমার জন্য দোয়া করবেন।বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০০৭ সালে ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুদক।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

গত বছর এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর পর খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমদ ছাড়া বাকি সবার অব্যাহতির আবেদনের শুনানি আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় এবং মওদুদের সময়ের আবেদনে শুনানি আটকে ছিল প্রায় এক বছর।বুধবার মওদুদ আহমেদ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার পক্ষের যুক্তি তুলে ধরেন। বিচারক মাহমুদুল কবীর এদিনই তার বক্তব্য শেষ করতে বললেও মওদুদ তা শেষ করেননি।শুনানির জন্য বিচারক সংক্ষিপ্ত মেয়াদে পরবর্তী দিন রাখতে গেলে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের কথা তুলে বার বার তারিখ পেছানোর দাবি করা হয় আসামিপক্ষ থেকে।পরে বিচারক আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি মওদুদের অবশিষ্ট শুনানি এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন রাখেন।শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আহমেদ আজম খান খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাইলে এজলাসের পাশের একটি কক্ষে বসে কথা বলার অনুমতি দেন বিচারক।