ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন আহমেদ। দুই জনই বিতরণের প্রথম দিনেই দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তাদের মনোনয়ন নেয়ার বিষয়টি এখন টক অব ফেনী। ভোটারদের আগাম ধারণা তাহলে কি এই আসনে দুই সেনা কর্মকর্তা মুখোমুখি হচ্ছেন ?

সূত্রে জানা গেছে,ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বেয়াই। তিনি খালেদা জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ এস্কান্দারের ভায়রা। ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনী-৩ আসনে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন আহম্মেদ। দাগনভূঞা উপজেলার জগতপুর গ্রামের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা। ফেনী পাইলট হাই স্কুল ও ফেনী কলেজে শিক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমির টেনিং শেষে তিনি ১৯৬৬ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসাবে সেনা বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। চাকুরীরত অবস্থায় দেশ-বিদেশে বিভিন্ন টেনিং কোর্সে যোগদান ছাড়াও কর্মরত ছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও। সর্বশেষ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহা পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহা পরিচালক পদে কর্মরত ও ১৯৯২ সালে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দল থেকে মনোনীত হলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবো।সরেজমিনে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী-৩ আসন বরাবরই বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ এই আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মোশাররফ হোসেন, তিনি মারা গেলে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী শুন্য হয়ে পড়ে। তখন থেকে নিয়মিত এ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ ও খোঁজ খবর রাখছেন বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে এই আসনে বিএনপি থেকে ১১ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানূয়ারী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাজী রহিম উল্যাহ বিজয়ী হন। আ.লীগ দলীয় স্বতন্ত্র সাংসদ রহিম উল্যাহকে নিয়ে দলীয় গ্রুপিং তুঙ্গে উঠে। ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী এই আসনে। আওয়ামী লীগ থেকে ১৪ প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দলীয় নেতা কর্মীদের অনেকেই ধারণা করছেন প্রার্থী জট ও গ্রুপিং ঠেকাতে আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন দিতে পারে। এতে দুই দল থেকে মুখোমুখি হতে পারেন সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা।সাবেক সেনা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজনরা আরও জানান, সম্প্রতি তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে এরশাদ তাকে কী বলেছেন তা জানা যায়নি। তবে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয়ের মধ্য দিয়ে তিনি যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান তা খোলাসা হয়েছে।২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এক-এগারোর পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হনলেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবো। আশা করি জনসেবার সুযোগ পাবো।