অবশেষে মুক্তি পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম। তিন মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর আজ মঙ্গলবার রাতে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে হাইকোর্টের জামিনের আদেশ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আসে। ওইদিন আদালতের কর্মঘণ্টার পর আদেশ পৌঁছানোয় আইনজীবীরা জামিননামা দাখিল করতে পারেননি। তাই আজ দুপুরে জামিননামা কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু জামিননামায় ঠিকানা ভুল থাকায় কারাকর্তৃপক্ষ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তা আদালতে ফেরত পাঠায়। এরপর জামিননামা সংশোধনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে সেটি আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করার পর তা যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে জামিনের যে কাগজ আমাদের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল সেটাতে ঠিকানা ভুল ছিল। পরে সেটা আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করে আবার সন্ধ্যার মধ্যেই তার স্বজনরা পৌঁছে দেন। এরপর যাচাই বাছাই শেষে রাত সাড়ে ৮টায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’ শহিদুল আলমের মুক্তির পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘তার (শহিদুল) মুক্তির মধ্য দিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে এখনো দেশের বিচার ব্যবস্থা ভেঙে যায়নি।’

প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকার দেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। পরদিন ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। ৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।