জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ মনোনয়ন বাণিজ্য করে থাকেন তাহলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাঁরা মনোনয়ন কিনেছেন তাঁরা যদি অভিযোগ করেন তাহলে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া আবে।

সোমবার বিকেল চারটার দিকে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে রাঙ্গা এসব কথা বলেন। মহাসচিব হওয়ার পর তিনি জাপা কার্যালয়ে এলে দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। তবে এ সময় দলের শীর্ষ নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি।আজই জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তাঁর জায়গায় মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় পার্টির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।রুহুল আমিন হাওলাদার মনোনয়ন–বাণিজ্যে জড়িত কি না? এমন প্রশ্নে রাঙ্গা বলেন, তিনি তো ঋণখেলাপি হয়েছেন। এ ধরনের কাজ করলে উনি ঋণখেলাপি হতেন না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, চেয়ারম্যানের অবস্থা ভালো। গতকাল রাতেও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তাঁর বাসায় গিয়ে দেড় ঘণ্টা কথা বলেছি। আজ সকালে নাশতা করেছি। চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে যেতে পারেন। চিকিৎসক তাঁকে দেখেছেন। তাঁর রক্তের হিমগ্লবিনের সমস্যা আছে। হিমোগ্লোবিন কম থাকলে তিনি দুর্বল হয়ে যান।জাতীয় পার্টি কতগুলো আসন পাচ্ছে? জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না, আমরা ঠিক কতটা আসনে নির্বাচন করব। আমাদের দাবি ৫২টি ছিল, এখনো সেটাই আছে। দু–এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জানা যাবে। আজকেও মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ বিষয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ থেকে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাকে। সোমবার দলীয় প্যাডে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে রাঙ্গাকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, আপনাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যের পাশাপাশি আপনি এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এরশাদের রাজনৈতিক সচিব ও দলের প্রেসিডেয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।তবে এরশাদ তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী, তার ভাষায় ‘সন্তানতুল্য’ হাওলাদারকে কেন মহাসচিব পদ থেকে বাদ দিলেন- সে ব্যাখ্যা ওই চিঠিতে দেওয়া হয়নি।

২০০১ এর নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির তৎকালীন মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে একাংশ দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর হাওলাদারকে মহাসচিব করেছিলেন এরশাদ।দলের মধ্যে টানাপড়েনে ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তিন বছরের মাথায় ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ফের তাকে মহাসচিব পদে ফিরিয়ে আনেন এরশাদ।এবার নির্বাচনের আগে এরশাদের অসুস্থতা ও হাসপাতালে যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন যখন ২০১৪ সালের ভোটের আগে তার সিএমইএচ ভর্তি হওয়া নিয়ে ধূম্রজালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল, হাওলাদার তখন হাওয়া পরিষ্কার করার চেষ্টা করে আসছিলেন।