একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।এ প্রসঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের মোটামুটি ২৪০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত। তবে দুই-একজন এদিক-ওদিক হতে পারে। জয়ী হতে পারে এমন প্রার্থী দেখেই আমরা মনোনয়ন দিয়েছি। শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন চূড়ান্তের চিঠি দেওয়ার পর প্রেসব্রিফিংয়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তফ্রন্টকে ৩টি আসন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জোটের শরিকদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ৫ আসনে, জাসদ ৩টিতে, বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ৩টিতে, তরিকত ২, জেপি-মঞ্জু ২ ও জাসদ-আম্বিয়ার ১ জন প্রার্থী নৌকা প্রতীকে লড়বেন। এছাড়া সব মিলিয়ে শরিকদের প্রায় ৬০টি আসন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে জাতীয় পার্টি ৪০-৪২টি আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়বে।
তিনি বলেন, শরিকদের যারা আছেন, তারা যদি আরও আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে নিজেদের প্রতীকে করতে পারবেন। আমরা শুধু নৌকা প্রতীকে কয়েকটি আসন দিলাম। সবারই বেশি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে, আমরা এর বেশি দিতে পারছি না।

চূড়ান্ত মনোনয়ন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা মনোনয়ন দেওয়া শেষ করেছি। যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ১৭টি আসনে একাধিক প্রার্থী ছিল, আমরা তা সিঙ্গেল করে নিয়ে এসেছি। বেশিরভাগ চূড়ান্ত প্রার্থীকে চিঠি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা বাকি আছেন, তারা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে দেখা করে চিঠি সংগ্রহ করবেন।শনিবার (৮ ডিসেম্বর) মনোনয়নের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৭টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। ওই সব আসনের প্রতিটিতে দুজন করে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

১৭ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী (রংপুর-৬), নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) (নওগাঁ-৫), মো. শহিদুল ইসলাম (বকুল) (নাটোর-১), বি এম কবিরুল হক (নড়াইল-১), ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (বরগুনা-১), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), তানভির হাসান ( ছোট মনির) (টাঙ্গাইল-২), আবুল কালাম আজাদ (জামালপুর-১), মো. মোজাফফর হোসেন (জামালপুর-৫), সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১), হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), হাজী মো. সেলিম (ঢাকা-৭), আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক) (ঢাকা-১৭), ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর (চাঁদপুর-১), নুরুল আমিন (চাঁদপুর-২), মুহম্মদ শফিকুর রহমান (চাঁদপুর-৪) ও এ কে এম শাহজাহান কামাল (লক্ষ্মীপুর-৩)।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ নভেম্বর দলীয় মনোনয়নের চিঠি বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। এর আগে, গত ৯ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে দলটি। ৩০০ আসনে ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন ফরম জমা দেন। ১২ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া শেষ হয়।ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বৈধ প্রার্থী হন ২৭৮ জন, ৩ জনের আবেদন বাতিল হয়। বিএপির ২৯৫টি আসনে ধানের শীষে ৬৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৫৫৫ জন, বাতিল হয়েছে ১৪১ জনের মনোনয়ন। ২১০ আসনে জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন প্রার্থীর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে বৈধতা পেয়েছেন ১৯৫ জন, বাতিল হয়েছে ৩৮ জনের মনোনয়নপত্র।

উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনের ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পুনঃতফসিল অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।