তাবলীগ জামায়াতের জুবায়ের পন্থী আলেমগণ ৬ দফা দাবিতে গাজীপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার ছাত্র ও সাধারণ তাবলীগী সাথীদের উপর হামলার ঘটনায় সা’দ ও ওয়াসিফ পন্থীদের বিচার দাবি করেন। এসময় তারা তাবলীগ জামায়াত ও বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর ভুরুলিয়া এলাকায় তাবলীগ জামাতের গাজীপুর মারকাজে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাবলীগের মুরুব্বী মুফতি তাওহীদুল হক বলেন, তাবলীগ জামায়াতের কার্যক্রম বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কোরআন ও সুন্নার ভিত্তিতে সার্বজনীন কিছু উসুলের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় ইজতেমার মুরব্বিগণ মারা যাওয়ার পর তাদের শুন্যস্থান পূরণ না করে মাওলানা সা’দ নিজেকে আমীর দাবি করে একক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াতী ও আমিল কাজের ফয়সালা দিতে থাকেন। এ ছাড়া তিনি কোরআন ও হাদিসের নিজস্ব মতামত ও মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে ওলামায়ে কেরামদের বিরাগভাজন হন। তিনি তাবলীগের মূল উসুল থেকে সরে গিয়ে নতুন নতুন উসুলের সমাবেশ ঘটান। বিশেষ করে আমভাবে মাছআলা বয়ান করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ বিশৃংখলা সৃষ্টি করেন। এসময় তিনি গত ১ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষে মুসুল্লীদের হতাহতের ঘটনায় জড়িত ওয়াসিফ-নাসিম গংদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

পরে তিনি তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। ছয় দফা গুলো হচ্ছে- ওয়াসিফ-নাসিমগং ও প্রত্যক্ষভাবে হতাহত করার কাজে জড়িতদের ন্যায় বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে, ওয়াসিফ-নাসিম পদালোভী ব্যক্তিদের তাবলীগের সুরা থেকে বহিস্কার করা, টঙ্গী ময়দান অনতিবিলম্বে ময়দানের সুরার সাথীদের তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে আনা, যথা সময়ে দুই পর্বে ১৮-২০ জানুয়ারি ও ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি ইজতেমা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, কাকরাইল ও টঙ্গীর বিশ^ ইজতেমা ময়দান মাওলানা সা’দ-ওয়াছিফ পন্থীদের কবল থেকে মুক্ত করা এবং যেহেতু জমহুল ওলামায়ে কেরাম ও মাশায়েকদের দৃষ্টিতে মাওলানা সা’দ কোরআন-হাদিসের পরিপন্থী ও শরীয়ত ও আকিদা বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি লালন করছেন। তাই সা’দপন্থী ও তার অনুসারীদের বিভ্রান্তমুলক কোন কার্যক্রম বাংলাদেশে চলতে না দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মুফতি নূরুল ইসলাম, মুফতি লেহাজ উদ্দিন, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা আতাউর রহমান, প্রফেসর নুরুজ্জামান, কাজী মঈন, মুফতি আবু ত্বনহা প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে ১ ডিসেম্বর ইজতেমা ময়দানে হামলায় আহত বেশ কিছু মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই দিনের সা’দ পন্থীদের হামলার বিবরণ তুলে ধরেন।