নোয়াখালী-৫ কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রাথী বিএনপির স্থায়ী কমিটর সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, বিএনপি, জামায়াত, ড.কামাল হোসেন, আ.স.ম বর, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সকল নেতৃবৃন্দ ধানের শীষে ভোট করছেন। ধানের শীষের ভারে নৌকা ডুবে যাবে। আমি পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, নির্বাচন কালে গ্রেফতার বন্ধ করুন। আমার নেতাকর্মীদেরকে আর হয়রানী করবেন না। বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে আমাদের লোকজনকে তাদের পরিবারকে হয়রানী নির্যাতন বন্ধ করুন। আপনার আমার বন্ধু, আপনারা আমার ভাই। এ নির্বাচনের সময় আপনারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন। সরকারী দলের সাথে যে ধরনের ব্যবহার করেন, আমাদের সাথেও একই ধরনের ব্যবহার করবেন। এটাই আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে আশা করি। প্রশাসন, পুলিশ, প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারেরা আপনারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন। নির্বাচনের দিন আমাদেরকে একই ধরনের অধিকার দেবেন। এ নির্বাচনের দিন কোন ভোট কেন্দ্র কাউকে দখল করতে দেয়া হবে না। যারা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বাধা দেবে, তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনটা হতে চাই। আমার ভোট আমি দিব, লড়াই করে ধানের শীষে ভোট দেব। এ স্লোগানটা সবার কাছে ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি মুজিব কলেজ গেটে পথ সভায় এসব কথা বলেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে মওদুদ বলেন, ১৫ বছরের মন্ত্রী এমপি ছিলেন। কিন্তু রাস্তা ঘাটের এখনও দুরাবস্থা। রাস্তা ঘাটের এখনও ভালো কোন উন্নতি হয়নি। আমি জিয়াউর রহমানের আমলে মন্ত্রী হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। আমি মন্ত্রী থাকা কালিন অবস্থায় এ এলাকায় দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন করেছি। অথচ ওবায়দুল কাদের বলে আমি মন্ত্রী থাকা কালিন অবস্থায় এ এলাকা অন্ধকারে ছিল। ওবায়দুল কাদের ১৫ বছর মন্ত্রী ছিলেন, একটি কলেজ, একটি হাই স্কুল জাতীয়করণ করেছেনকিনা তা দেখাতে পারবেন না। ওবায়দুল কাদের সড়ক মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় সড়ক বিভাগের একটি রাস্তাও তিনি ফোরলেন করতে পারেননি। আমি নোয়াখালী বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। নোয়াখালী জজ কোটের আধুনিক ভবন করেছি। কবিরহাটকে থানা ও উপজেলা করেছি। ঢাকা থেকে নোয়াখালী উপকূল ট্রেন আমি চালু করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আশার পর গত ১০ বছরে ইয়াবা, ফেন্সিডেল ও বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্যে এলাকা সয়লাব হয়ে গেছে। আমি ক্ষমতা থাকাকালিন সময়ে যাদেরকে চাকুরি দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে কোন টাকা নেয়া হয়নি। অথচ গত ১০ বছরে এ অঞ্চলে যারা চাকুরী নিয়েছে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। তারা একজন পিয়ন পদে চাকুরী দিতে ৫লাখ পর্যন্ত টাকা নিয়েছে। একজন নার্সকে চাকুরী দিতে ১০লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। টাকা বিনিময়ে চাকুরী দিয়েছেন, কাউকে টাকা ছাড়া চাকুরি দেয়া হয়নি। আমরা ক্ষমতায় গেলে তরুণ সমাজের জন্য আগামী দিনে তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তি করে যোগ্যতার উপর চাকুরী দেয়া হবে। এ এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনবো। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা বন্ধ করব। যুব সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে হবে। তিনি নির্বাচিত হলে, তার দল সরকার গঠন করলে তার নির্বাচনী এলাকাসহ নোয়াখালীর প্রধান রাস্তাগুলো ফোর লাইন করা হবে। মিথ্যা কথা বলে বাংলাদেশের মানুষকে ফাঁকি দিয়ে ভোট নিয়েছিলেন ২০০৮ সালে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, ১০ টাকায় চাল খাবাবে, ঘরে ঘরে চাকুরী দিবে। এখন চালের কেজি ৬০টাকা দরে মানুষ কিনে খাচ্ছে। এখন ঘরে ঘরে চাকুরীর পরিবর্তে ঘরে ঘরে ইয়াবা পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের বাড়ীতে যাবেন, ঘরে যাবেন শুধু ইয়াবা আর ইয়াবা পাবেন। মিথ্যা কথা বলে যারা ভোট নিতে চায় তাদেরকে ভোট দেবেন না। তাদেরকে প্রত্যাখান করবেন আগামী নির্বাচনের দিন। আমাদেরকে ঘরোয়া বৈঠক পর্যন্ত করতে দেয়া হচ্ছে না। গত ৮ বছর আমাদেরকে জনগণের কাছে যেতে দেয়নি। রমজান মাসে আমাকে বাড়ী থেকে বের হতে দেয়নি। পুলিশ দিয়ে আমার বাড়ী ঘেরাও করে রেখেছিলেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কোরবানের ঈদের দিনও আমাকে বাড়ী থেকে বের হতে দেয়নি পুলিশ। তার একটি মাত্র কারণ হচ্ছে এ এলাকায় ওবায়দুল কাদেরের কোন জনপ্রিয়তা নেই। তাদের সব কিছু আছে, জনগণের ভোট তাদের পক্ষে নেই। প্রশাসন বলেন, পুলিশ বলেন, আরো যত কিছু বলেন, টাকা-পয়সা থেকে শুরু করে হাজার হাজার কোটি টাকা আছে। জনগণের ভোট নেই তাদের পক্ষে। যদি গণতন্ত্র ও ভোটে বিশ্বাস করেন তাহলে আসুন আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন করি। আপনাদেরটা আপনারা করুন, আমাদেরটা আমরা করি। ভোটের ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নেব। আর যদি হাঙ্গামা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনারা পরাজয় এখনই মেনে নিয়েছেন। হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, লুট এমন কোন জায়গা নেই এসকল কাজ এ এলাকায় আপনারা করেননি। এর জবাব দিহি করতে হবে।এ সব কিছুর বিচার হবে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যেসব মামলা দিয়েছেন তারা বাড়ীতে থাকতে পারছেনা। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। তাদের পরিবারকে অনেক নির্যাতনের শিকার করেছেন। নির্বাচনের পর এর বিচার করা হবে। এখন গায়েবি মামলা হয়েছে, ভবিষ্যতে মারফতি মামলা করবে। নেয়াজপুর ও অশ্বদীয়া এ দুইটি ইউনিয়ন নোয়াখালী-৫ আসনের সাথে ছিল। এ দুইটি ইউনিয়ন বর্তমান মন্ত্রী নির্বাচনী এলাকা থেকে কেটে নোয়াখালী-৪ আসনে সংযুক্ত করেছেন। নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে ওবায়দুল কাদের এ কাজ করেছে।

এ নির্বাচনে যদি আমরা জয় লাভ করতে না পারি তাহলে আওয়ামী লীগ বেগম জিয়াকে বিষ খাইয়ে হত্যা করবে। আপনাদের একটি ভোটের কারণে বেগম জিয়াকে আমরা কারাগার থেকে মুক্ত করতে পারবো। সবাইকে বলে দিকে হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, ধানের শীষে ভোট চাই। এ জাতীয় ঐক্যের সাথে নৌকা কখনও ভাসতে পারবে না। মাওলানা সাঈদী সাহেবের কথা আমরা কখনও ভুলতে পারবো না। আজকে তিনি আমৃত্যু জেলখানায় আছেন। আমরা জয় লাভ করলে সাঈদীকে মুক্ত করে ছাড়বো।

তিনি আরো বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় পথ সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা পথে পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে গাড়ী থেকে নামিয়ে পিটিয়ে বহু লোককে আহত করেছে। ব্যরিস্টার মওদুদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার এ প্রথম আনুষ্ঠানিক পথসভা শুরু হলো। এ পথসভায় আগত অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী পথসভায় যোগদান করেছে। মওদুদ আহমদ আরো বলেন, আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই। আমরা আমাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চাই। দেশে আইনের শাসন দেখতে চাই। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আনতে চাই। সকল নাগরিকের সমান অধিকার ফিরে পেতে চাই। এ জন্য আজকে নির্বাচনী প্রচারনার প্রথম পথসভা শুরু হলো। এখনও নির্বাচনের কোন সুষ্ঠ পরিবেশ নেই। কারণ যে দল ক্ষমতায় আছে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এ জন্য তারা পদে পদে বাধা দিচ্ছে। সভা সমাবেশ করতে দেয় না। প্রশাসন অনুমতি দেয়ার পরও কবিরহাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা পথসভা পন্ড করে দিয়েছে। তারা হামলা করে বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে আহত করেছে। আমি এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আজকে চরহাজারী থেকে মিছিল নিয়ে আসার পথে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীরা গুলি হামলা করেছে। বাংলাবাজার ও চরকাঁকড়ায় মিছিলের উপর তারা হামলা করেছে। আজকে এ পথসভায় মানুষ যেখান থেকে আসার চেষ্টা করেছে সেখানে তারা হামলা করেছে। আওয়ামী লীগ জানে তাদের বর্তমানে কোন জনপ্রিয়তা নেই। যদি তাদের জনপ্রিয়তা থাকতো তাহলে এ ধরনের হামলা করতো না। সারা রাত তারা নির্বাচনী এলাকায় বোমা ফাটায়। এমন কি আমার বাড়ীর সামনেও তারা রাতে বোমা ফাটিয়েছে। তারা গণতন্ত্র হরণ করতে চায়। এ জন্য তাদের জনপ্রিয়তা নেই। সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিরাট গাড়ী বহর নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় এসেছে। মন্ত্রী বাহাদুর গাড়ী বহর নিয়ে আসে তার সামনে পেছনে পুলিশ বহর থাকে। অথচ আইনে আছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীর গাড়ীর বহর থাকতে পারবে না। আগে পিছে পুলিশ থাকতে পারবে না। তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রী এমপিরা কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবে না। কিন্তু তারা আইনের উর্ধ্বে থেকে তারা আইনকে ভঙ্গ করছে। তাদের বেলায় আইন মানা হয় না। আজকে আমরা জানাতে চাই এ নির্বাচনী এলাকায় কোন প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কারও পক্ষে সম্ভব নয় জনগণের আশা আকাংখা প্রতিপালন সৃষ্টি করতে পারে। ২০১৪ সালে কোন ভোটার ভোট দেয়নি। ওই নির্বাচনটা ছিল প্রহশনের নির্বাচন। ভোট বিহিন একজন মন্ত্রী এমপি’র মাঠে ময়দানে তাদের এখন ভোট নেই। তখনও তাদের ভোট ছিলনা এখনও নেই।