এমপিদের শপথের পর মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে এনেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি ওঠেছে। এসব নেতাদের মধ্যে অন্যতম চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরবিক্রম শওকত আলী সরকার। তিনি চারবারের চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ৪৫ বছর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী সরকার জানান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জিতলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে বার বার হেরে যাচ্ছেন বীরবিক্রম শওকত আলী। এতদিন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির জন্য তাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। এবার উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার অজুুহাত দিয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। খেতাবধারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অর্জন একটি উপজেলার মধ্যে থেমে থাকতে পারে না। তাকে অবশ্যই আমরা মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই।

সদ্যসমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী আলাপচারিতায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আওয়ামী লীগ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে মূল্যায়ন না পাওয়ার কথা জানান ত্যাগী এই নেতা। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে বিকম পাস করেও কোনো চাকরিতে যোগদান না করে রাজনীতিতে আসি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে দলের চরম দুর্দিনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সুসংগঠিত করেছি। দু’বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত ৪ বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। মুক্তিযুদ্ধে জিতলেও এখন রাজনীতিতে হেরে যাচ্ছি। আর কত ত্যাগ শিকার করলে দলে মূল্যায়িত হবো জানি না। তিনি বলেন, যারা এমপি-মন্ত্রী নির্বাচিত হচ্ছেন তাদের থেকে দলের ও দেশের জন্য অবদান কোনো অংশে কম না।চিলমারীর সচেতন সমাজের ভাষ্য- সারা দেশে যখন দারিদ্র্যের হার কমছে তখন চিলমারী উপজেলায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ শতাংশে। এছাড়া চিলমারীতে কোনও অভিভাবক না থাকায় চিলমারী বন্দরের কাজও বন্ধ হয়ে আছে। শিল্প কারখানা নেই। সবমিলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে চিলমারীতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে শওকত আলী সরকারকে মন্ত্রী করার বিকল্প নেই।