পেরের ঝড়েও জয় পেল না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অধিনায়ক মুশফিকের অনবদ্য ব্যাটিং কল্যাণে ৩ বল হাতে রেখে জয় পেয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। এ নিয়ে ৪ ম্যাচে তিনটি জয় পেল চট্টলা বাহিনী। কুমিল্লার ১৮৪ রান চেজ করে ৪ উইকেটে জয় নির্ধারনী ম্যাচে দারুণ শুরু এনে দেন মোহাম্মদ শেহজাদ এবং ডেলপোর্ট। দুজনের পার্টনারশিপ হয় ৫৮ রানের। তবে সাইফউদ্দিনের বলে ১৩ রান করা ডেলপোর্ট তামিমের তালুবন্দি হলে ভাঙে ৫৮ রানের জুটি।

২৭ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৪৬ রানের ঝড় তোলা শাহজাদকে ফেরত পাঠান শহিদ আফ্রিদি। আগের ইনিংসে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান থিসারা পেরেরা ইয়াসির আলীকে (৪) এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। আর মেহেদী হাসানের শিকার হন নজিবুল্লাহ জার্দান (১৩)।

দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যাটিং মুশফিকের। ৩০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন চিটাগং অধিনায়ক। ৬২ রানে একবার রিভিউ নিয়ে জীবন পান তিনি। সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন ১২ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। তবে ১৯তম ওভারেই শেষ হয় মুশফিকের ইনিংস। ৪১ বলে ৭ চার ৪ ছক্কায় ৭৫ রান করা মুশফিক সাইফউদ্দিন কে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানার ওপর তামিমের তালুবন্দি হন।

শেষ ওভারে চট্টলার জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭ রান। ক্রিজে তখন নাঈম-ফ্রাইলিং। ৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর ভেড়ান তারা।শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে কুমিল্লাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান চিটাগংয়ের অধিনায়ক মুশফিক। তামিমের উইকেট হারানোর মাধ্যমে শুরু হয় কুমিল্লার ইনিংস। ব্যাট হাতে লুইস শুরুতে উইকেট হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালান। তবে তিনি বেশিদূর যেতে না পারলেও দলের হয়ে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। ৩৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। মাঝে আনামুল হক বিজয়- ইমরুল কায়েস ১০ ও ২৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। আফ্রিদি-ডওসনের ব্যাট থেকে আসে ২ রান করে।

এদিন আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান সংগ্রহ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এর মধ্যে প্রায় পুরো অংশই পেরেরা দাপট। সাইফুদ্দিনদে সঙ্গে নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছেন চট্টগ্রামের উপর। মাত্র ২৫ বলে ৭৪ রান করেন থিসারা পেরেরা। ৮টি বিশাল ছয় ও ৩টি চারের মারে তিনি এ রান করেন। সাইফুদ্দিনও কম যাননি। সঙ্গ দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে তিনিও হিট করেন। তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান।

চিটাগংয়ের ফ্রাইলিংকের উপর বেশি ঝড় যায়, তার ২৪ বলে ৪৯ রান তুলে নেন পেরেরারা। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন নাঈম হাসান। তার চার ওভারে মাত্র ২০ রান করতে পারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। খালেদ আহমেদ সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন।