প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভাকাঙ্খিরা।সকাল সাড়ে ১১টায় তার মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনা হয়। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মারা যান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক আমানুল্লাহ কবীর। প্রেস ক্লাবে তার জানাজায় অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হালিম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, সাবেক সাংসদ অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য সংস্থার জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিকদের মধ্যে এম আমানুল্লাহ, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম তাহাবুর, খন্দকার মনিরুল আলম, আবদুল কালাম আজাদ, সৈয়দ আখতার ইউসুফ, নুরুল হুদা, মাহফুজউল্লাহ, জাহিদুজ্জামান ফারুক, গাজীউল হাসান খান, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, এম এ আজিজ, মঞ্জুরুল ইসলাম বুলবুল, আবদুল জলিল ভুঁইয়া, আবদুল হাই শিকদার, আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, আবদুস শহিদ, কামালউদ্দিন সবুজ, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, জুবায়ের আহমেদ, সরদার ফরিদ আহমেদ, শাহেদ চৌধুরী, মাঈনুল আলম, কুদ্দুস আফ্রাদ, জাহেদ চৌধুরীসহ শতাধিক সাংবাদিক।

আমানুল্লাহ কবীরের বড় ছেলে শাতিল কবীর জানাজার আগে তার বাবার জন্য সবার দোয়া চান।এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় কল্যাণপুরের দারুস সালাম ফুরফুরা শরীফ মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জানাজার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মোল্লা জালাল, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা এই প্রয়াত সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর বিএনপি,বিএফইউজে ও ডিইউজের দুই অংশ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফটো জার্নালিস্ট ইউনিয়ন, জামালপুর সমিতি, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম প্রভৃতি সংগঠন থেকে প্রয়াত সাংবাদিকের কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

আমানুল্লাহ কবীরের পরিবারের থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে তার মরদেহ জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মেলান্দহে রেখিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেক দফা জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

এদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রখ্যাত সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তার লেখনি ছিল সমসময়ই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। তার সততা, নিষ্ঠা ও কর্তৃত্ববোধ সর্বজনস্বীকৃত ও প্রশ্নাতীত। সাংবাদিকতায় তার অবদান অনিস্বীকার্য। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের এই দুঃসময়ে তার মৃত্যু গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। তার শূণ্যতা সহজে পূরণ হবার নয়।মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপি মহাসচিব।