কেউবা পড়েছেন লাল-সবুজ গেঞ্জি কেউবা লাল সবুজ শাড়ি। শত শত মিছিলের স্রোত আসছে শাহবাগ, নীলক্ষেত, দোয়েল চত্বর নানা পথ দিয়ে। সকল মিছিলের গন্তব্য একটিই। আর তা হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দেখলে অনেকটা মনে হবে সকল লাল সবুজের মিছিল যেন মিশেছে সোহরাওয়ার্দিতে এসে।আওয়ামী লীগে টানা তিনবারের বিজয় উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এ বিজয় সমাবেশ। শনিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টা নাগাদ খুলে দেওয়া হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সকল প্রবেশ পথ।হাজারো মানুষ প্রবেশ করছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ের পর মিছিল করতে মানা করেছিলেন। তাই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর তেমন কোনো মিছিল তখন দেখা যায়নি। কিন্তু শনিবার সকাল থেকেই যুবলীগের একের পর এক মিছিল প্রবেশ করতে দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

ঢাকা উত্তর মহানগর যুব লীগের মিছিলে এসেছেন কর্মী জুবায়ের। বলেন, ‘আপা (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন সবাই এক সাথে বিজয় উৎযাপন করবো, আজ করছি। খুবই ভালো লাগছে। আপা আমাদের যেভাবে বলবেন যুবলীগ সেই পথেই চলবে।আজিমপুর মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী নাছিমা আক্তার বলেন, ‘নির্বাচনে মানুষ আওয়ামী লীগের কাজ দেখে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আজকের আনন্দের মাধ্যমে তার পরিপূর্ণতা আসবে।দুপুর আড়াইটায় শুরু হয় বিজয় সমাবেশ। উপস্থিত হন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিক নির্দেশনা দেন নেতা কর্মীদের আগামী দিনের পথচলার।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ শুরুর পূর্ব মুহূর্তে স্লোগানে, গানে মুখরিত হয়ে উঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আগত নেতা, কর্মী, সমর্থকরা সবার মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

তার আগে বর্তমানে সংস্কৃতি মঞ্চে চলে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশিত গান। এ মঞ্চ থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থিম সং ‘জিতবে এবার নৌকা’ কোরাসে গান শিল্পীরা।

পরে মানিকগঞ্জের নির্বাচিত সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজের গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে আরোহণ করেন। সমাবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেতাকর্মীদের মিছিলে বহন করে আনা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। উদ্যানের ছয়টি গেটের মধ্যে শিখা চিরন্তন গেট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ, ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনের গেট দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রবেশ করেন।

তিন নেতার মাজারসংলগ্ন গেট, বাংলা একাডেমির সামনের গেট, টিএসসি গেট ও চারুকলার সামনের গেট দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রবেশ করছেন।সমাবেশস্থলকে নান্দনিক শৈল্পিকভাবে সাজানো হয়। সমাবেশের বিশাল প্যান্ডেলে প্রায় ৩০ হাজার চেয়ার বসানো হবে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ লোকের সমাবেশ হয় বলে জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭টি আসনে জয়লাভ করে। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব ঘিরে শাহবাগ ও রমনা এলাকাসহ উদ্যানের আশপাশে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।থানা পুলিশ, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেন।এ জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর চারপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।শাহবাগ ও টিএসসি মোড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়াযান। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।সরেজমিনে শাহবাগ, মৎস্যভবন, হাইকোর্টের সামনের এলাকা, দোয়েল চত্বর, টিএসসি থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রতিটি প্রবেশপথে সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।