রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন-আরসিবিসি দেশটির জনগণকে ধোঁকা দিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমির সঙ্গে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আরসিবিসির কর্মকর্তাদের আচরণটা আমার আইনী আচরণ বলে মনে হয়নি। আমার মনে হয় তারা নিজেদের দেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য মামলাটা করেছে।

এই কথা বলছি এই কারণে, ফিলিপিন্স সরকার ফিলিপাইনের সিনেট পর্যন্ত হ্যাকিংয়ের কারণে বা আচরণে বা কন্ডাক্টের জন্য আরসিবিসিকে দায়ী করেছে। সেখানে বাংলাদেশ আইনী পন্থায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে সেটা মানহানিকর কিছু নয়।

তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।তার জবাবে আরসিবিসি মানহানির অভিযোগ এনে গত ৬ মার্চ ফিলিপিন্সের সিভিল কোর্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মামলা করে বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অবশ্য আরসিবিসির মামলায় কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির। আরসিবিসির মামলাকে সময়ক্ষেপণের কৌশল’ হিসেবেই দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রান্তিক পর্যায়ে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এলক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে আদালত গঠনের কোনো চিন্তাভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, উপজেলাতে আদালত গঠন করার কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আগে উপজেলায় আদালত ছিল। আমরা যেটা করছি, অলরেডি বিদ্যমান, সেটা হচ্ছে- একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে একটা উপজেলার জন্য ডেজিগনেট করা হচ্ছে, যাতে সেই উপজেলার মামলাগুলো ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যায় এবং দ্রুত কার্যক্রম শুরু হয়।আমি মনে করি এটা দিয়েই আমরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। সেই কারণে উপজেলা পর্যায়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমার মনে হয় না।

আগামী বছর ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারপতি নির্বাচনে ভোট হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, জাপান একজন বিচারপতিকে সেখানে প্রার্থী করতে চায় এবং সাউথ এশিয়ার জন্য যে সিট আছে সেটায় নির্বাচন করবেন, সেখানে বাংলাদেশে সমর্থন চান।

আমি অন্য প্রার্থীদের বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছি, আপাতত তারা জানতে পেরেছেন ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম ক্যান্ডিডেট হতে পারে। আমরা যেহেতু আগামী নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দিচ্ছি না সেহেতু আমি তাকে বলেছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনিয়ে আলাপ-আলোচনা করে জাপানের প্রতি আমাদের সমর্থন কনফার্ম করব।আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের দুঃসময়ে জাপানের সহযোগিতা এবং তাদের জনগণের সহমর্মিতার জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করার জন্য জাপান সহযোগিতা করায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।এছাড়া হলি আর্টিজানের মামলার বিষয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।