জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক পথচারীর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে অন্য শিক্ষার্থীরা। এ সময় ছিনতাইয়ে জড়িত আরও দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পানির পাম্পের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে ঘটনাস্থল গিয়ে তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন নিরাপত্তা শাখার কর্মকতারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আটকরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের ছাত্র সঞ্জয় ঘোষ, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের ছাত্র রায়হান পাটোয়ারি এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের আল রাজি। এদের মধ্যে রায়হান পাটোয়ারিকে গেলো বছরের ৩১ অক্টোবর ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হযেছিল যা এখনো বহাল আছে। শনিবার সকালে ছিনতাইয়ে শিকার ওই পথচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ডানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন সড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ক্যাম্পাসের বিশমাইল এলাকার শ্বশুরবাড়ির কোয়ার্টার থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক পথচারী। পথিমধ্যে ওই পথচারীকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে সড়ক থেকে জিম্মি করে পানির পাম্প সংলগ্ন ঝোঁপে নিয়ে গিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়।

এসময় পথচারীকে দিয়ে বাড়িতে ফোনকলের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দাবি করে ছিনতাইকারীরা। পথচারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং সাথে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ে বাধা দিলে তাদের সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে সড়ক থেকে উপস্থিত কয়েকজন পথচারী ঘটনাস্থলে গেলে দুই জন ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। বাকি তিনজনকে লোকজন হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপত্তা শাখার কর্মকতারা উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসম ফিরোজ উল হাসান বলেন, অভিযুক্তরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাদে ছিনতাইয়ের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।