ক্রিকেটের তিন ফরমেটের অধিনায়কত্বেই বদল এনেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। নতুন টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছে রহমত শাহকে। ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে গুলবাদিন নায়েব এবং টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছে রশিদ খানকে। এছাড়া ওয়ানডেতে রশিদ খান সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করবেন। আর টেস্টে সহ-অধিনায়কত্ব পেয়েছেন হাসমতউল্লাহ শহীদি। আর টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক রশিদ খানের সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন শফিকুল্লাহ।

তিন ফরমেটেই পেছনের চার বছর ধরে আফগানিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন আসগর আফগান। ক্রিকেটে নতুন অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক বেছে নেওয়ার পরিকল্পনাই জানান দিচ্ছে অনেক দূরের চিন্তা করেই আফগানিস্তান নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই তিন অধিনায়কের সবারই বয়স ৩০-এর নিচে। টেস্টের রহমত শাহ ২৫ বছর বয়সী। ওয়ানডের অধিনায়ক গুলবাদিন নায়েবের বয়স ২৮ এবং টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক রশিদ খানের বয়স এখনো ২০-এর কোটায়।

বিশ্বকাপের জন্য আফগানিস্তান এখনো দল ঘোষণা করেনি। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের ঘোষণা দিয়ে ফেলেছে। নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক গুলবাদিন নায়েব আফগানিস্তানের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। মূলত তিনি মিডিয়াম পেস বোলার। তবে ব্যাট হাতেও ভালো দক্ষতা দেখাতে পারেন। ৫২ ম্যাচে আছে তার পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি। উইকেট শিকার ৪০টি।

তরুণদের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে এসিবি চেয়ারম্যান আজিজুল্লাহ ফাজলি বলেন, ‘তরুণ ক্রিকেটাররাই দেশের ভবিষ্যৎ। বিশ্বকাপে টেস্ট খেলুড়ে ৯টি দেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ আমরা পাচ্ছি। সেই চিন্তা থেকেই আমরা ভেবেছি নতুন ক্রিকেট নেতৃত্বের জন্য এটাই সঠিক সময়।

তবে তরুণদের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলেই যে সিনিয়ররা দল থেকে বাদ যাবেন, এমন বাজে সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে না আফগানিস্তান। আফগান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছেন সিনিয়র খেলোয়াড়রা দলে থাকবেন। তারা নতুন অধিনায়কের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পরপরই মোহাম্মদ নবীকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয় আফগানিস্তান। নতুন অধিনায়ক হিসেবে আসগর অফগানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আসগর আফগানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করে। তার নেতৃত্বেই আফগানিস্তান ২০১৮ সালের জুনে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে অংশ নেয়। চলতি বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়েও আসগর আফগান দলকে নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে আফগানিস্তান ৫৬টি ওয়ানডে, ৪৬টি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে।