গাজীপুরে এক নারীকে গলা ও পেট কেটে খুনের ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ ও দু’মামাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। সোমবার মঙ্গলবার র‌্যাব-১’র স্পেশালাইজ কোম্পানী পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নিহতের পুত্রবধূ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সদর থানার রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা (মিয়াবাড়ী) এলাকার আরিফ হোসেনের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার লিজা (২৪), লিজার দুই মামা গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার সুর্য্য নারায়নপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আমির হোসেন (৩৫) ও নুর হোসেন (২৯)।

র‌্যাব-১’র কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, চাকুরী করার সুবাদে গাজীপুর ন্যাশনাল পার্কের ভিতর বসবাস করে জসিম উদ্দিনের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫০)। তার ছেলে আরিফ হোসেন স্ত্রী লিজাকে নিয়ে শ^শুড় বাড়ীতে বসবাস করতো। গত ৯ এপ্রিল বিকেলে বাড়ী পাশর্^বর্তী গজারিয়াপাড়ার জঙ্গল থেকে গরু আনতে যায় আলেয়া। এসময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা আলেয়া বেগমকে অপহরণ করে প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে গলা এবং পেট কেটে তার মৃত্যু লাশ জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে আলেয়া বেগমের সন্ধান না পেয়ে তার স্বামী ১০ এপ্রিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এদিকে খুনের একদিন পর ১১ এপ্রিল নিহতের লাশ বাড়ীর পিছনে পরিত্যক্ত পুকুরে কচুরি পানার নিচে লুকিয়ে রেখে গুম করার চেষ্টা করে। ঘটনার তিনদিন পর ১২ এপ্রিল ওই পুকুর থেকে নিহতের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় উক্ত তিনজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। রবিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১’র কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নেতৃত্বে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা জেলার কাপাসিয়া থানার কাপাসিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মামলার প্রধান আসামী ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব’র ওই কর্মকর্তা আরো জানান, নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন ও তাদের ছেলের মামা শ্বশুড়দ্বয় ন্যাশনাল পার্কে পাশাপাশি দোকানে ব্যবসা করে আসছিল। তাদের মধ্যে একাধিকবার মারামারি সংঘটিত হয়েছিল। এসব ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ লিজা তার মামাদের পক্ষ নিয়ে শ্বাশুড়ীর সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করতো। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানাগেছে, পারিবারিক ও পার্কের ভিতরে দোকান নিয়ে ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারকৃতরা আলেয়া বেগমকে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে নিহতের স্বামী জসীমউদ্দীন জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ন্যাশনাল পার্কের দোকানের ব্যবসা নিয়ে শ্বশুর- শ্বাশুড়ীর সঙ্গে লিজা এবং লিজার মামা আমির হোসেন ও নূর হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় তারা খুন- জখমের হুমকি দিয়ে জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী আলেয়াকে পার্কের দোকানের ব্যবসা ছেড়ে চলে যেতে বলে।