শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা না রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই মন্ত্রণালয় থেকে এটি কার্যকর করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুয়ায়ী আগামী বছর থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে ক্লাসে উপস্থিতি, হাতের লেখা, বই পড়ার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে- এমন সিদ্ধান্তই নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রস্তুত করার কাজও চলছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন বিদ্যালয়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে একাডেমিক শিক্ষার বাইরে নাগরিক, দায়িত্ব, কর্তব্য, অধিকার নৈতিক শিক্ষার ওপর বেশি জোর দিতে হবে। তাহলেই আগামীতে শিশুদের যোগ্য এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

কমিটি এরইমধ্যে পরীক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি কি হবে সেটি ঠিক করেছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়েছে একজন শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি, বই পড়া, মনোযোগ, আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, আগামী বছর থেকে এই পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের চাপ অনেক কমে যাবে। নতুন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পদ্ধতির জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদুল আলম বলেন, শিক্ষকরা উৎসাহের সাথে এই কাজ করবে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর মনিটরিং থাকবে।

ধাপে ধাপে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীর ব্যাগের চাপে অতিষ্ঠ। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা এচাপ থেকে রেহাই পাবে।