রাজধানীর অভিজাত এলাকা মন্ত্রিপাড়াসহ ১৯ স্পটে এডিস মশার প্রকোপ বেশি। এসব এলাকায় ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার রোগের প্রাদুর্ভাবও বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সর্বশেষ সার্ভে অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৪ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা বা ডিম পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫ শতাংশ বাড়িতেই এই লার্ভার উপস্থিতি রয়েছে। সাধারণত ২০ শতাংশের উপরে গেলে সেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা এলার্মিং হিসেবে ধরা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে ডিএনসিসির ২ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন মিরপুরের এক কমিউনিটি সেন্টারে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় এই তথ্য জানান হয়।

ডিএনসিসির অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম সফিউল আজমের সভাপতিত্বে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিএনসিসির কমিউনিটি মবিলাইজার ডা. মাহমুদা আলী।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সার্ভে তুলে ধরে রাশিদুজ্জামান খান বলেন, রাজধানীর ১৯টি পয়েন্ট ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেশি। এগুলোর মধ্যে বনানী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গাবতলী, মগবাজার, মালিবাগ চৌধুরী পাড়া, মিরপুর-১, মহাখালী ডিওএইচএস, নাখালপাড়া, পূর্ব শ্যাওড়াপাড়া, টোলারবাগ, উত্তরা-৯ নং সেক্টর, বাংলাবাজার, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, গুলবাগ, কলাবাগান, মেরাদিয়া, মিন্টু রোড, বেইলী রোড ও শান্তিনগর। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুর প্রকোপ মন্ত্রিপাড়া খ্যাত মিন্টু রোড ও বেইলী রোডে। এখানে ৪০ শতাংশ ডেঙ্গুর বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা দেখা গেছে।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সারাদেশে ১০ হাজার ১৪৮ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর ১৩ মে পর্যন্ত ১২৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তারমধ্যে জানুয়ারিতে ৩৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে ৩৬ জন এবং মের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ২৫ জন।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুবাহী মশার বংশ বিস্তার ধ্বংস করার কথা তুলে ধরে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, আমরা এক সঙ্গে কাজ করছি। আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন ডেঙ্গু মশা জন্মাতে না পারে। সেজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিএনসিসির খালগুলো পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছি। খালে গাপ্পী মাছের পোনা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রিপাড়ায় এডিস মশার প্রকোপ বেশি এর এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, হ্যাঁ কথা সঠিক। এডিস মশা তো আসলে বাসাবাড়িতে ফুলের টবে বেশি হয়। ওখানে যেহেতু এ ধরনের একটা সম্ভাবনা বেশি তাই ডেঙ্গুর সম্ভাবনাও বেশি। তাছাড়া ওখানে আমাদের মশক নিধনকর্মীদের প্রবেশে কিছুটা বিধি নিষেধ থাকে। তাই আমরা চেষ্টা করছি মন্ত্রিপাড়ার মালিদের নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে তাদের জাগ্রত করতে।

মাঠে মশক নিধন কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায় না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এরকম অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এবার মশক নিধনকর্মীদের মনিটরিং করছি। কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার শাস্তির ব্যবস্থা করছি। অনেকের বেতন কর্তন করা হয়েছে। যারাই অনুপস্থিত থাকবে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ যাতে না বাড়ে।