জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় পলাতক দুই আসামি মেজর জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে আব্দুল্লাহর সম্পত্তি ও মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে বিচারক আগামী ৩০ জুন মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন ঠিক করেন।চলতি বছরের ১৯ মার্চ আট আসামির বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, গত ১৮ ডিসেম্বর সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট দেওয়া হয়। চার্জশিট গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট বিচারক স্বাক্ষর করেছেন। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তিনি বদলির আদেশ দেবেন।

২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর একই আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান চার্জশিট দেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ।

চার্জশিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১১ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন। এরা হলেন আরাফাত রহমান, সেলিম ওরফে হাদী, আলম, আকাশ, তৈয়ব, জনি, আসাদ, হাসান, তালহা, শরিফুল ও তারেক।

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দুপুরের পর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একইদিন কাছাকাছি সময়ে লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে এর স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক সুদীপ কুমার ওরফে রণদীপম বসু ও প্রকৌশলী আবদুর রহমানকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে।

চার্জশিটে বলা হয় দীপনকে হত্যার নির্দেশদাতা, মূল পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ছিলেন মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া। দীপনকে হত্যার জন্য মেজর জিয়া তার সহযোগী আসামি খাইরুল, আবদুস সবুর ও মইনুলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।