রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়তে প্রায় সাত ঘণ্টা দেরি হওয়ায় যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেছেন, সকাল ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ১৮টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। তন্মেধ্য ১৪টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে। সুন্দরবন, ধুমকেতু ও রংপুর এক্সপ্রেসসহ চারটি ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে। রংপুর এক্সপ্রেস সাত ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। এজন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।

শুক্রবার (৩১ মে)সকাল ১০টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে রেলপথ মন্ত্রী এ কথা বলেন। নূরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার আন্তঃনগর ও লোকাল মিলে ৫২টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে ১৮টির মধ্যে ১৪টি ট্রেন ঠিকমতো ছেড়ে গেছে। এটা কি সাফল্য নয়? কারণ বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে পরিবহনের সক্ষমতার চেয়ে যাত্রী বেশি। অতিরিক্ত সক্ষমতা ব্যবহার করে যাত্রীদের সেবা দিচ্ছে রেলওয়ে। সার্বিকভাবে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পাঁচদিন যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, শনিবার (১ জুন) রংপুর এক্সপ্রেসে শিডিউল বিপর্যয় থাকবে না। কারণ রংপুর থেকে আলাদা ট্রেনের ব্যবস্থা করেছি, ওটা সময়মতো ঢাকা এসে পৌঁছাবে। রেলপথ মন্ত্রী বলেন, সফলতা ব্যর্থতা জনগণ বিচার করবে। তবে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় রেল ভালো সেবা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণ রেলকে আপন বাহন মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আগামী দিনে রেল ব্যবস্থাপনা আরো এগিয়ে যাবে। কোরবানির ঈদের আগে আরো তিন-চারটি নতুন ট্রেন যোগ হবে জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ৫০টি নতুন কোচ রেলে যোগ হবে। নতুন কোচ দিয়ে লালমনিরহাট ও রংপুর রুটে চালানো হবে।

এবার ঈদে ট্রেনে উঠার জন্য স্টেশনে কোনো মই থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি ছাদে যায়, তাহলে নিজ দায়িত্বে ঝুঁকি নিয়ে যাবে। এতে কোনো অঘটন ঘটলে রেল মন্ত্রণালয় দায় নেবে না। তিনি ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম ও কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জামালপুরগামী অগ্নিবীণা ও পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস পরিদর্শন করে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রেলপথ মন্ত্রী।