দ্বিতীয় দফায় ভারতের লোকসভা নির্বাচনে জেতার পর থেকেই নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত ২৩ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি নেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান। এর দিন তিনেক পরেই মোদীর কাছে সরাসরি ফোন দেন তিনি। এর আধা মাস পেরোনোর আগেই এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন ইমরান খান। সবকিছুতে দাবি একটাই, শান্তির জন্য আলোচনা।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত শুক্রবার (৭ জুন) কাশ্মীর ইস্যুসহ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আলোচনার আহ্বান জানিয়ে নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

চিঠির বিষয়টি এমন সময় সামনে এলো, যার মাত্র এক দিন আগেই ভারত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিসকেকের আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিলেও সেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা হবে না।পাকিস্তানের জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ইমরান খান বলেছেন, দুই দেশের দারিদ্র্য দূর করার একমাত্র পথ দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা। শুধু এর মাধ্যমেই এ অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব।

ইমরান বলেন, পাকিস্তান কাশ্মীরসহ দু’দেশের সব সমস্যার সমাধান চায়। তবে, এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে চিঠির জবাবে কিছু বলা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই, পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে চলেছে ভারত। তাদের দাবি, কেবল সন্ত্রাস বন্ধ করলেই প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আলোচনায় বসা সম্ভব।

তবে, আশা করা হচ্ছিল, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নরেন্দ্র মোদীকে ইমরান খান একাধিকবার শুভেচ্ছা জানানোয় যে আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে হয়তো বিসকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) আগামী সম্মেলনে দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বৈঠক হতে পারে।

ইমরান খানের টুইট ও ফোনকলের জবাবে মোদী সেসময় ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও এবার চিঠির বিষয়ে এখনো নিশ্চুপ।ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু ২০১৬ সালে। ওই বছর ভারতের পাঠানকোট ও উরি সেনাছাউনিতে হামলা চালায় পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় ভারতের ১৮ জওয়ান নিহত হন। এর পর থেকেই দুই দেশের শীতল সম্পর্ক আরও খারাপ হতে থাকে। জঙ্গি হামলার জবাবে সীমান্ত পার হয়ে হয়ে পাকিস্তানে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালায় ভারত। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে ৩৫ থেকে ৭০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করা হয়।

তবে, এ দাবি অস্বীকার করে পাকিস্তান। তারা জানায়, ভারতীয় সেনারা সীমান্তরেখা পার হননি। তারা সীমান্তের ওপার থেকেই পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে পাকিস্তানের দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন।

চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে বোমা হামলায় দেশটির সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অন্তত ৪০ জন সদস্য নিহত হন। এ হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহম্মদ। এর জবাবে, ১২ দিন পর পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। দেশটির দাবি, ২৬ ফেব্রুয়ারির হামলায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ফেলে জইশ-ই-মুহম্মদ, হিজবুল্লাহ মুজাহিদীন ও লস্কর-ই-তাইয়েবার ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, এতে অন্তত ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে।

ভারতের এ দাবিও অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। দেশটি জানায়, ভারতীয় বিমানবাহিনী কোনো স্থাপনায় নয়, বোমা ফেলেছে জঙ্গলে। এতে শুধু গাছের ক্ষতি হয়েছে, মানুষ নিহত হয়নি।

তবে, ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, চুপচাপ বসে থাকেনি পাকিস্তান। পরেরদিনই বালাকোটে হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় সীমান্তে হানা দেয় দেশটির সেনা সদস্যরা। এসময় আকাশযুদ্ধে ভারতের দুটি ও পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি হন ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। পরে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে শান্তির আহ্বান জানায় পাকিস্তান।