প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে গণফোরাম বলেছে,এটি জনগণের নয়, গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষা করবে।সংসদে বাজেট প্রস্তাবের দুদিন পর শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া জানায় দলটি।আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট সংসদে প্রস্তাব করেছে। ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট আগেরটির চেয়ে ১৮ শতাংশ বড়।বিএনপি বলেছে, এই বাজেট জনবিরোধী, এতে ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য বাড়বে। তার জবাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেছেন, বাজেট নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চলছে।

বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেন, এটা জনগণের বাজেট নয়, এটা কয়েকটা শক্তিশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠির জন্য। এই বাজেট জনগণের ক্ষতি করবে এবং দেশকে খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের মালিকানা নেই। সেজন্য বর্তমান বাজেটটি আমরা সম্পূণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কামাল বাজেট নিয়ে গণফোরামের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য অর্থনীতির ছাত্র রেজা কিবরিয়াকে দায়িত্ব দেন।আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে এবার নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দেওয়ার পর এখন দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

রেজা কিবরিয়া বলেন, এই বাজেট একটি অদূরদর্শী ও দুর্বলভাবে প্রণীত, যাতে দেশের প্রকৃত সমস্যা মোকাবেলার কোনো চেষ্টা নেই। বর্তমানে দেশকে যারা লটেপুটে খাচ্ছে এবং যারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করছে, বাজেটটি তাদের সুবিধার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

এই সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, এই সংসদ নির্বাচিত না। এই প্রতিনিধিত্বহীন ও অনির্বাচিত সরকারের বাজেট যে আমাদের নাগরিকদের ইচ্ছার প্রতিফলন নয় এবং এটি যে দেশের প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে প্র্রণয়ন করা হয়নি–এটাতে অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই।বাজেট নিয়ে সমালোচনার করতে গিয়ে অনতিবিলম্বে দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনর দাবি জানান গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক।তিনি বলেন, বাজেটে যে ধরনের কর বসাচ্ছে, যে ধরনের ট্যারিফ বসাচ্ছে, ধরেন, আমদানি করা গুঁড়া দুধ, এটা জনগণের উপর ট্যাক্স বসানো।

জনগণের পকেট কেটে কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা এই বাজেটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রেজা কিবরিয়া।

গুটিকয়েক ব্যবসায়ী গোষ্ঠির জন্য বাজেট কোন যুক্তিতে বলছেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনার মনে আছে, পাকিস্তান আমলে কত পরিবার ছিল? আপনি দেখুন পাওয়ার সেক্টরে যে কনট্রাক্টগুলো হয়েছে, যে ধরনের কট্রাক্ট সই করেছে তার প্রত্যেকটির জবাব সরকারকে দিতে হবে একদিন।মন্দঋণ পুনঃসংজ্ঞায়িত করণে সরকারের নতুন নীতিমালা, অনুৎপাদনশীল ব্যয়, রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে স্বল্প বরাদ্দ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম নেতা আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, মহসিন রশিদ, আ ম সা আমিন, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ, আমিন আহমেদ আফসারী, লতিফুল বারী হামিম উপস্থিত ছিলেন।