অথৈ সাগরের ¯্রােতে দলছুট কচুরিপানার মতো ভাসছে শেফালী বেগমের সংসার। কূল-কিনার খুঁজে পাচ্ছেন না। জানা নেই গন্তব্য। দেড় বছর আগে ঘাতক ব্যধি কেড়ে নেয় সংসারের বোঝা বওয়া মানুষ স্বামী আবুল কালামকে। অসহায় শেফালী দুই সন্তান নিয়ে মানুষের কাছে চেয়ে চিন্তে, ঝিয়ের কাজ করে জীবিকার চাকা ঠেলছিলেন। ভাগ্য বড় নির্মম। ছোট্ট ছেলে ওমর ফারুকও মরনব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সহায়-সম্বল খুইয়ে ঢাকা ন্যাশনাল শিশু হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করায়।

ধরা পড়ে শিশু ফারুকের বাল্ব নষ্ট। চিকিৎসায় এই মুহুর্তে অন্তত দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। ক্লাশ থ্রি পড়া ফারুক এখন বিছানায় শয্যাশায়ী। চিকিৎসা বন্ধ। ওষুধও চালাতে পারছেনা ঠিকমতো। অর্থাভাবে মেয়ে অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া রিয়ামনির লেখাপড়া বন্ধ। শেফালী এখন বাড়ি বেতমোড় স্কুল এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে কলপাড়া পৌরশহরে। যেন দুঃখের সাতকাহন। চরম অসহায় বিধবা এ মহিলা দুই সন্তান নিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দু’চোখে সব অন্ধকার দেখছেন। ছেলের মৃত্যু শঙ্কা, মেয়ের লেখাপড়সহ খাবার যোগাড়ে অনিশ্চয়তায় শেফালীর কাছে পৃথিবীর সবকিছু এখন অর্থহীন মনে হয়। চোখের পানিতে বুক ভাসায়। বিনিদ্র রজনী কাটে, শুধু অনিশ্চিত ভবিষতের পরিণতি ভেবে কাহিল হয়ে পড়েছেন। আশ্রয় নিয়েছেন এক আত্মীয়ের বাসায়। ওই মহানুভব মানুষটিও মাছ বিক্রি করে কোনমতে সংসারের চাকা ঠেলছেন। তারপও নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখছেন এদেরকে। তিনি মানবতার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছেন। কিন্তু সঙ্গতি নেই ওদের চিকিৎসা কিংবা লেখাপড়ার খরচ যোগানোর।

অবলম্বন হিসেবে যাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন শেফালী এখন সেই সন্তানদের ভবিষ্যত চরম অনিশ্চয়তায়। তাই পথ হাতড়ে কূল-কিনার পাচ্ছেন না। কলাপাড়া শহরের পানিউন্নয়ন বোর্ডের পেছনের সড়কটির পাশেই ছোট্ট টিনশেড ঘরের একটি চৌকির ওপর বসবাস শেফালির। ছোট্ট ওমর ফারুককে জিজ্ঞেস করতেই বিছানা থেকে উঠে বলল, ভাল আছে। ছোট্ট মুখাবয়বে এক চিলতে মৃদু হাসির চেষ্টা। হাসি নয়, যেন শুকনো ঠোটের সঙ্গে ঠোটের পরশ। ডাকতেই রিয়ামনি হাজির। লেখাপড়ার কী হবে ? উত্তর নেই। জানায়, বাসায় বই পড়ছে। সুযোগ থাকলে স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা দেবে। তবে অংক পারছে না। কার কাছে যাবে। কার কাছে শিখবে। পাল্টা প্রশ্ন জুড়ে দেয়। মা শেফালির জানা নেই এসবের কোন উত্তর। নিজে দৌড়ান কাজের সন্ধানে। সন্তানের দুরাবস্থায় দু’চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। ছলছল চোখে শুধু একটাই কথা, আমি এহন কী করমু। আদরের ছোট্ট ছেলেটার চিকিৎসার কী হবে। কোথায় গিয়ে দাড়াবে। এমনসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে শেফালি দিশেহারা হয়ে যায়। ব্যাংকে হিসাব খুলেছেন। (অগ্রণী ব্যাংক খেপুপাড়া শাখা, শেফালী বেগম, সঞ্চয়ী হিসাব নং-০২০০০১৩৪৭৩৬১৭। অথবা-শেফালী বেগমের মোবাইল নম্বর-০১৭৬৫৮৫২৬০২)। যদি কেউ চিকিৎসা সহায়তা দেয় এ কারণে। এখন শেফালিসহ দুই সন্তানের ভরসা সমাজের হৃদয়বান, বিত্তবান মানুষ। নইলে অজানা গন্তব্যে, অচেনা পথে হারিয়ে যাবে।