ব্যবসায়ীদের কার কাছে কী পরিমাণ সোনা আছে,তার ঘোষণা আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রতি ভরি স্বর্ণ এক হাজার টাকা কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ ওই সময়ের পর আর থাকবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। রোববার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া স্বর্ণ করমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা আরও সময় চাইলে তা নাকচ করে একথা জানান তিনি।

স্বর্ণ করমেলা বাংলাদেশে এই প্রথম। নীতিমালা না থাকার কারণে এতদিন ধরে হিসাবের বাইরে থাকা স্বর্ণ এই মেলার মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আসবে বলে আশা করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

বর্তমান সরকার স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের পর অপ্রদর্শিত সোনা বৈধ করার লক্ষ্যে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে তিন দিনের এই মেলা আয়োজন করেছে এনবিআর। ঢাকা বিভাগীয় কর অঞ্চলগুলোতে মেলা চলবে তিন তিন, বাকি বিভাগীয় শহরে দুদিন মেলা চলবে।

গত ২৮ মে অপ্রদর্শিত সোনা বৈধ করার সুযোগ দিয়ে এসআরও জারি করে এনবিআর। চলতি ৩০ জুনের মধ্যে প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য এক হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট হীরার জন্য ৬ হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রুপার জন্য ৫০ টাকা কর দিয়ে অপ্রদর্শিত ধাতু ও রতœ বৈধ করা যাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ নীতিমালার চেষ্টা করে আসছিলেন। শুধু এই ব্যবসাটির পরিচ্ছন্ন নীতিমালা ছিল না। কোত্থেকে স্বর্ণ আসে এবং কোথায় যায়, এর প্রকাশ্য কোনো ব্যাখ্যা কারও জানা ছিল না। বিমানবন্দরে প্রায় প্রতিদিনই কয়েক কেজি করে স্বর্ণের চালান ধরা পড়ত।

যেহেতু নীতিমালা ছিল না, তাই কার কাছে কী পরিমাণ স্বর্ণ আছে, তা এতদিন সঠিকভাবে কোনো ঘোষণা কেউ দিতে পারেনি। যারা কর দেন, তারা টাকার অঙ্কে একটা কিছু ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন।

গত বছর অক্টোবরে স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই নীতিমালার উল্লেখযোগ্য দিক হল, সরকার এটি চাপিয়ে দেয়নি। এনবিআর-ব্যবসায়ী মিলে এই নীতিমালা তৈরি করেছে।এখন থেকে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখার সুযোগ থাকছে না বলে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন মোশাররফ।

যাদের কাছে অতিরিক্ত সোনা আছে, সেগুলো ঘোষণার বাইরে থেকে গেলে সেগুলো ইএফডি বা ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইসে ধরা পড়বে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই মেশিন স্বর্ণের দোকান, হোটেল রেস্টুরেন্টে যাবে।

সোনার বার আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়টি তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রপ্তানির উদ্দেশ্যে স্বর্ণের কাঁচামাল আমদানি করলে বন্ড সুবিধা থাকবে।

এনবিআর সদস্য কানন কুমার রায়, কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার নাহার ফেরদৌসী, বাজুসের সভাপতি গঙ্গা চরণ মালাকার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অপ্রদর্শিত সোনা ঘোষণার আওতায় আনতে গিয়ে নানা শঙ্কার পাশাপাশি কত দাম ধরা হবে, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন অনেক ব্যবসায়ী। মেলার প্রাঙ্গণে এনিয়ে কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে দেখা যায় তাদের।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আসা এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গচ্ছিত স্বর্ণের মূল্য ৫০ লাখ টাকা ধরে তিনি সর্বশেষ আয়কর দিয়েছিলেন। কিন্তু তার গচ্ছিত স্বর্ণ ৫০০ ভরির বেশি।

ফলে এখন তিনি সব সোনা বৈধ করবেন, নাকি আংশিক বৈধ করবেন, তা বুঝতে পারছেন না।দীর্ঘদিন ধরে গচ্ছিত থাকা ওই সোনার ক্রয়মূল্য ২০ বছর আগেরটি ধরবেন, না কি বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী হিসাব করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় এই ব্যবসায়ী।

এবিষয়ে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, তিনি তার কাছে থাকা প্রতি ভরি সোনার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরে কর পরিশোধ করেছেন। সোনার দাম কত ধরা হবে- জানতে চাইলে এনবিআরের কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার নাহার ফেরদৌসী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দাম নির্ধারণের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের বিবেচনার উপর।

তবে বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কমিয়ে ধরে পরে বর্তমান বাজারমূল্যে বিক্রির সময় ব্যবসায়ীরা জটিলতায় পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেন তিনি। লোভের অঙ্ক বড় হওয়ায় ভ্যাটের আকারও তখন বাড়তে পারে, বলেন এই কর কর্মকর্তা।