বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করা না গেলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-২আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নূর মোহাম্মদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা তাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে না পারি তাহলে আশঙ্কা রয়েছে যে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হবে।

মিয়ানমারের ১১ লাখের অধিক নাগরিকের জন্য অনির্দিষ্টকাল ধরে খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা আমাদের জন্য খুব কঠিন ব্যাপার, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।তাই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সংকটের শুরু থেকেই একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দ্বারা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অসন্তুষ্টিতে ভুগছে। সরকার আগামী ৫ বছরে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ।এজন্য ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে বিভিন্ন জেলায় ৮৮টির স্থান নির্বাচন শেষ হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও সব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখেই সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূল ম্রোতধারায় আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম কওমি শিক্ষা মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে পারবে।