এক বছরের মাথায় আবারো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৯ জুন) নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত দু’টি অডিও ফাঁস হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পাশাপাশি শনিবার (২৯ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড (লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা) স্থগিত করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ এতথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক হলেন-ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রহুল আমিন ও ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রহিম।

জানা যায়, শুক্রবার (২৮ জুন) একটি জাতীয় দৈনিকে দুই শিক্ষকের নিয়োগ বাণিজ্যোর অডিও ফাঁসের খবর প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে শিক্ষক রুহুল আমিন এবং আব্দুর রহিমের সঙ্গে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থী আরিফের আট মিনিট পঁয়ত্রিশ সেকেন্ডের কথোপকথন হয়।

কথোপকথনে প্রভাষক নিয়োগে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি হয়। এর মধ্যে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের সভা হওয়ার আগে দিতে হবে ১০ লাখ টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা সিন্ডিকেটে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেলে বাকি ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসন দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমরা সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে। অডিও ফাঁসের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরে বিষয়টির সঙ্গে ওই দুই শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সঙ্গে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি করা হবে।

আরো জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যোর অডিও ফাঁসের অভিযোগ উঠে। পরবর্তীকালে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেট তাকে শাস্তি (৫টি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ ও ৫ বছর কোনো প্রশাসনিক কাজে অংশ নিতে পারবেন না) দেয়।