জলাবদ্ধতা নিরসন মহাপ্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীতে খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এই অভিযান শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় রাজাখালী খালের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। অভিযানে দোতলা ভবন ও সেমিপাকা ঘরসহ খাল দখল করে গড়ে তোলা ২৬টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মঈনুদ্দিন বলেন, বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও খালের ওপর থেকে স্থাপনাগুলো সরানো হয়নি। এজন্য আমরা উচ্ছেদ শুরু করেছি। প্রথমদিনে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা আমরা অবৈধ দখলমুক্ত করেছি। এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ১৩টি খালের ওপর ১৫৭৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রথম দফায় অভিযানে নেমেছে সিডিএ।

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প ২০১৭ সালে একনেকে পাশ হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে খালের আবর্জনা অপসারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রকল্পের কার্যক্রম।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তাকারী সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর গত এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খাল থেকে প্রায় পৌনে ২ কোটি ঘনফুট মাটি ও বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। গত বছর খালগুলো থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ঘনফুট এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৪২ লাখ ঘনফুট মাটি উত্তোলন করা হয়েছে।

খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযানে সিডিএতে দায়িত্বরত বিচারিক হাকিম সাইফুল আলম চৌধুরীও ছিলেন।