রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থান মসজিদের খাদেম হানিফ শেখ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সাইফুল (৩৮) ওই মসজিদেরই আরেক খাদেম। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ থানার মইসাই গ্রামের বাবার নাম শফিকুল ইসলামের ছেলে।আগের দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বেপারীকান্দি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে মঙ্গলবার পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন।

দুপুরে পিবিআই সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করেছে। তাকে সরিয়ে হানিফ শেখকে মসজিদের প্রধান খাদেমের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছে। সাইফুল ভেবেছিল, হানিফ মারা গেলে প্রধান খাদেমের দায়িত্ব তিনি ফিরে পাবেন।

গত ৩ জুলাই রাতে আজিমপুর মেয়র হানিফ জামে মসজিদের দোতলার একটি কক্ষ থেকে প্রধান খাদেম হানিফের (৪৫) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সাইফুলকে প্রধান আসামি করে চার জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন হানিফের শশুর জাকির শেখ। অপর তিন আসামি- ওই মসজিদের আরেক খাদেম ফরিদ আহমেদ (৫০) ও ঝাড়–দার বাহাউদ্দিন (৫৫) এবং নিউমার্কেট জামে মসজিদের খাদেম আবুল কালাম আজাদ (৪৫) গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বনজ কুমার সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের নভেম্বরে মসজিদটি উদ্বোধনের পর থেকে সাইফুল ছিলেন প্রধান খাদেম। তার সহযোগী খাদেম ছিলেন ফরিদ ও হানিফ।কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাইফুলের কাজকর্মের সন্তুষ্ট না হওয়ায় তাকে সরিয়ে হানিফকে দায়িত্ব দেয়। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হানিফের মৃতদেহ ৩ জুলাই রাতে উদ্ধার হলেও তাকে হত্যা করা হয ২ জুলাই বিকালে। সাইফুল বলে, তারা তিন খাদেম ও একজন ক্লিনার একটি কক্ষে ঘুমাতো। ঘটনার দিন বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে কক্ষের মেঝেতে হানিফকে একা ঘুমন্ত পেয়ে সাইফুল রান্নাঘর থেকে চাকু এনে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে তার বুকে ও পেটে গলায় আঘাত হানতে থাকে। হানিফ মারা গেলে তার মৃতদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ঢুকিয়ে বেলকনিতে রেখে দেয় এবং রক্তমাখা মেঝে পরিষ্কার করে।

পিবিআই প্রধান বলেন, রাতে ওই কক্ষের বাকি দুই বাসিন্দা সাইফুলের কাছে হানিফের খোঁজ করলে সাইফুল তাদেরকে বলেন, হানিফ বাইরে গেছে। সাইফুলের পরিকল্পনা ছিল, ফরিদও বাহাউদ্দিন ঘুমিয়ে পড়লে বস্তাটি পুরাতন কবরে পুতে রাখবে। কিন্তু অনেক রাত পর্যন্ত তারা জেগে থাকায় ব্যর্থ হয়ে বাবার মৃত্যুর কথা বলে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে বের হয়ে যায়। প্রথমে নিজের বাড়ি, সেখান থেকে শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের খুলশীতে যায়। সেখানে গিয়ে নিজের পরিচয় গোপন করতে সাইফুল দাঁড়ি কেটে বেশভূষা পরিবর্তন করেন বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।