বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি ও তার পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টার সময় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, তাকে (মিন্নি) এখন পর্যন্ত আমরা গ্রেফতার বা আটক করিনি। শুধু জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আনা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার পরিবারের সদস্যসহ বরগুনা পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না।কতক্ষণ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনিনি। তার জবানবন্ধি গ্রহণ করার জন্য এনেছি। তবে কতক্ষণ সময় লাগবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।