দিনাজপুরের কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের কয়লা খনি থেকে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকার কয়লা চুরির মামলায় কোম্পানির ৭ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২১ জুলাই) দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শামছুল আলম। দুদক উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামিদের মধ্যে ১৪ জনের নাম মামলার এজাহারে ছিল। তদন্ত শেষে আরও ৯ জনের নাম যুক্ত হয়। এজাহারে নাম থাকা ৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র: চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, বুড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আব্দুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌলশী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শরিফুল আলম, মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার, মো. আরিফুর রহমান ও সৈয়দ ইমান হাসান, উপ ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মো. মোর্শেদুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান, মো. জাহেদুর রহমান সহকারী ব্যবস্থাপক সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন, মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক মো. শোয়েবুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হালদার ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জোবায়ের আলী।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন যারা: বুড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অ্যাক্সপ্লোরেশন) মো. মোশারফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেইফটি ম্যানেজমেন্ট) মো. একরামুল হক, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী ও মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রেকি টন কয়লা চুরি হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৪ জুলাই পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরে দুদকের কাছে মামলার নথি হস্তান্তর করে পুলিশ।

কয়লা চুরির ঘটনা অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল দুদক। উপ-পরিচালক শামছুল আলমের নেতৃত্বে কমিটিতে আরও ছিলেন সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলাম। অনুসন্ধান কাজের তদারকি করেন দুদক পরিচালক কাজী সফিকুল আলম।