রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কি ব্যবস্থা নেয় তা দেখবেন হাইকোর্ট। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের করা তদন্ত রিপোর্ট রোববার (২১ জুলাই) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়। পরে রিটাকারির আইনজীবীর মতামত নিয়ে আদালত ঈদের ছুটির এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত সময় বেধে দেন। এ সময়ের মধ্যে সরকার জড়িতের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানাতে আদেশ দেন।

জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে গত ২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষকে দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদন আজ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম আদালতে দাখিল করেন।

পরে আদালত রিটকারির কাছে জানতে চান তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তোষ কিনা। তখন রিটকারি আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন আদালতকে জানান তিনি তদন্তে সন্তোষ। তবে রিপোর্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি বলে তুলে ধরেন।তখন আদালত বলেন, আমরা কিছুটা সময় দেয়। দেখি সরকার জড়িতদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়। পরে আদালত ঈদের বন্ধের এক সপ্তাহ পর তারিখ ঠিক করেন।

রূপপুরে বালিশসহ আসবাবপত্র কেনা কাটায় প্রকৃত মূল্য থেকে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি দেখানো হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই অনিয়মের সাথে জড়িত নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ আলম সহ অর্ধশত কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, অতিরিক্ত এসব টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানাগেছে যা তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।

গত ২ জুলাই প্রকল্পের কেনাকাটার অনিয়ম হয়েছে কিনা প্রতিবেদন দাখিল করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়ে আদেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সরওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।একই সঙ্গে, সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।চার সপ্তাহের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে ওই দিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।