দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এক যুবকের বিচ্ছিন্ন দেহ ও মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গোলাপ হোসেন (২৭) নামে ওই যুবকের দেহ যেখানে পড়েছিল তা থেকে ২৫০ মিটার দূরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছিল তার মাথা। খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের শুশুলী গ্রাম থেকে মৃতদেহের খণ্ডিত অংশদুটি উদ্ধার করা হয়। গোলাপ হোসেন আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের শুশুলী গ্রামের মৃত আতিক ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার ঈদের দিন খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন গোলাপ। বেলা হলেও তিনি ঘুম থেকে উঠছেন না দেখে পরিবারের লোকজন তার ঘরে যায়। এ সময় সেখানে রক্ত দেখতে পান তারা।

খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে ৫শ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় খোড়া মাটি দেখতে পান তারা। স্থানীয় লোকজন মাটি সরিয়ে একটি হাত দেখতে পায়। পরে পুলিশে খবর দেন তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাথাবিহীন দেহটি উদ্ধার করে। পরে আরও ২৫০ মিটার দূরে খোড়া মাটি দেখতে পায় পুলিশ। সেখানকার মাটি সরিয়ে গোলাপের মাথা উদ্ধার করা হয়।

ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গোলাপের শোবার ঘরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডের বেশকিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, শোবার ঘরেই গোলাপকে হত্যা করে মাথা ও দেহ আলাদা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎমা ও সৎভাইসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পূর্ব-শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছি। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’