গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রজাপতি ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী এক শিশু সোমবার নিহত হয়েছে। তার নাম সুরভী আক্তার (৭)। সে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার চরমোছলদী (জয়ারচর) গ্রামের কামরুল ইসলামের মেয়ে। এদিকে একইদিন বাড়িতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সেচতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আল রায়হান (২৪) নামের অপর এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার আলমগীরের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে এলাকায় রিক্সা চালায় কামরুল। তার শিশু সন্তান সুরভী স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্ডেনের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। কামরুলের স্ত্রী একটি কারখানার শ্রমিক। সোমবার সকালে মেয়েকে বাসায় রেখে কামরুল ও তার স্ত্রী প্রতিদিনের মতো কাজে চলে যায়। এদিন সুরভী স্কুলে না গিয়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধূলা করতে ঘর থেকে বের হয়। বেলা ১১টার দিকে খেলাধূলা করার সময় তারা প্রতিবেশী তাসলিমার বাড়ির নিচু হয়ে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারে একটি প্রজাপতি বসে থাকতে দেখে। সুরভী ওই প্রজাপতি ধরতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। এসময় অন্য শিশুদের ডাক চিৎকারে ¯’ানীয়রা ঘটনা¯’ল গিয়ে সুরভীকে উদ্ধার করে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরভীকে মৃত ঘোষনা করেন।

এদিকে, টঙ্গীতে একইদিন সকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আল-রায়হান (২৪)। সে টঙ্গীর মদিনা পাড়া এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। আল-রায়হান রাজধানীর উত্তরা মমতাজ উদ্দিন বিজনেস এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট কলেজের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলো।

নিহতের বাবা হেলাল উদ্দিন জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীর মদিনা পাড়া এলাকার নিজ বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করতেন আল-রায়হান। রবিবার রাতে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বাড়িতে বৃষ্টির পানি জমে যায়। পরদিন সকালে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে ওই পানি সেচ করতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয় রায়হান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রায়হানকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোস্তাফিজুর রহমান টিটু
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।