আশিঁ হাজার টাকা ঘুষের দাবি পূরণ না করায় অটো চালকসহ কৃষককে আটক অভিযুক্তদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে চারঘাট থানার এএসআই নবীন ও এএসআই আমিনুলের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃতদের পরিবার জানায়,গত ৬ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে প্রতিদিনের মতো পুঠিয়া টু আড়ানী রোডে গাড়ী চালিয়ে বাসায় ফিরছিলেন বালাদিয়াড় গ্রামের ফেলাল। তিনি একই গ্রামের বিশু মুন্সীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ ৬ মাস যাবত গাড়ী চালাচ্ছেন। প্রমাণ ছাড়া আগে মাদক বিক্রয় এর সাথে জরিত থাকার অভিযোগে আটক করেছিল পুলিশ। সৎপথে থাকার প্রত্যয়ে একটি তিন চাকার অটো কিনেন তিনি। তার পর নিজেই চালাতেন তার গাড়িটি।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাসায় ফিরার সময় রাস্তায় আটকায় এএসআই নবীন ও এএসআই আমিনুল। কোন মাদকছাড়া তাকে গ্রেপ্তার করে ৮০০০০ টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি সহ থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী ফরিদা থানায় গেলে ৭৫০০ টাকা দিয়ে আসে, এবং থানায় ফরিদাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শাষিয়ে দেয় কাওকে কিছু না বলার জন্য। গাড়ীর কাগজ পত্র থাকলেও ফিরিয়ে দেয়নি গাড়ীটি। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন মামলায় নাম দিয়ার হুমকি দেন তার স্ত্রীকে এএসআই নবীন চন্দ্র বর্মণ। বিষয়টি জানাজানি হলে একই গ্রামের সাহাবুল নামক আরো একজনকে মাদক সন্দেহে আটক করে নিয়ে যায় নবীন। সাহাবুল এর স্ত্রী বলেন আমরা গরীব মানুষ,আমার কাছ থেকে ৩০০০০ হাজার টাকা দাবি করেন রাত একটার দিকে নবীন দারোগা। প্রতিবাদ করলে হুমকি ধামকি দিয়ে ধরে নিয়ে যায়। এরপর টাকা না পাওয়ায় রাগে ক্ষোভে এএসআই নবীন ২০ পিচ ইয়াবা দিয়ে আরো তিন জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

এছাড়া তাদের ছাড়ানোর জন্য পরিবারের লোকজন চারঘাট থানার এএসআই নবীন ও আমিনুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তারা আশিঁ হাজার টাকা দাবি করেন আটকদের পরিবারের সদস্যদের কাছে। এতে রাজি না হওয়ায় আসামীর স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দিয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মামলা দিয়ে কোর্টে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

শনিবার সরজমিনে বালাদিয়াড় গ্রামে গিয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী,স্থানীয় এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়।

তারা জানান, ৬ই সেপ্টেম্বর সন্ধার দিকে যাত্রী নিয়ে আড়ানী যাওয়ার সময় অটোচালক ফেলালকে আটক করে পুলিশ। এ সময় সেখানে অনেক লোকজনের ভিড় হয়। তখন পুলিশ আটকদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের কথা বলেনি।

আটক ফেলালের স্ত্রী জানান, ঘটনার পরের দিন রাত একটার দিকে এএসআই নবীন থানা থেকে আবার বালাদিয়াড় গ্রামে আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আটক ফেলালের ভাই,স্ত্রী এবং ২য় আসামী সাহাবুল এর স্ত্রী,মা সহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন। আটকদের ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে এএসআই নবীন তাদের কাছে আশিঁ হাজার টাকা দাবি করেন। দরকষাকষির এক পর্যায়ে এএসআই নবীন ৬০হাজার টাকায় নেমে আসেন। কিন্তু অর্থভাবে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করতে পারেননি আটকদের পরিবারের সদস্যরা।

সাহাবুলের স্ত্রী বলেন,পুলিশের চাহিদামতো ঘুষ দিতে আমরা রাজি হয়নি। তাই দুইজনের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দুই এসআই এবং ওসির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ডিআইজি হাফিজ আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেয়। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহী অফিস