বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরসরি জড়িত ছিলেন আরেক শিক্ষার্থী মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন। আজ শুক্রবার এ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের মধ্যে দ্বিতীয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়ন। তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। এদিন আবরার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আরেক আসামি মিজানুর রহমান মিজানকেও আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গত ৮ অক্টোবর একই আদালত আসামি সকাল, জিয়নসহ এ মামলায় বুয়েট ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আসামি হিসেবে স্বীকারোক্তি দেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল। ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াছির আহসান চৌধুরীর কাছে এ জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আবরার হত্যাকাণ্ডের বর্ণনার সঙ্গে তার নিজের জড়িত থাকাসহ অপর আসামিদের নাম প্রকাশ করেন তিনি। জবানবন্দি দেওয়ার আগে ইফতিকে আদালতে হাজির করে আসামিকে কোর্টে প্রেরণ ও জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। আবেদনে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল তদন্তকারী এ কর্মকর্তা আবেদনে বলেন, ‘আসামি ইফতি মোশাররেফ সকাল ৬ অক্টোবর আবরার ফাহাদকে বুয়েট শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুম থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে যান। পরের দিন হলের ২০১১ নম্বর রুমের ভেতরে নিয়ে ইফতিসহ মামলার এজাহারভুক্ত ও অন্যান্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেটের স্টাম্প এবং লাঠি-সোটা দিয়ে আবরারের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড মারধর করেন। মারধরের ফলে তিনি মারা যান।’

তার মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে মৃতদেহ ফেলে রাখেন। পরে কয়েকজন ছাত্র তার দেহ সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন, বলেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।

আবরার হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি ইফতি মোশাররেফ সকাল বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি রাজবাড়ী সদর থানার লক্ষ্মীকোল গ্রামের বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার ইফতি মোশাররেফসহ ১০ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রিমান্ডের দুদিন শেষ হওয়ার পরই ইফতি আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

এদিকে আজ শুক্রবার ভোরে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হন বুয়েটের এমএমই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র মাজেদুল ইসলাম। বিকেলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার হন নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম বিল্লাহ। এদের মধ্যে মাজেদুল এজাহারভুক্ত ৮ নাম্বার আসামি। তবে শামিম এজাহারভুক্ত নন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আবরার হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ও এজাহার বহির্ভূত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মাজেদুল ও শামীমসহ ইসলামসহ এই মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জন গ্রেপ্তার হলো।

ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের জেরে আবরারকে গত রোববার রাতে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে কয়েক ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের দোতলায় ওঠার সিঁড়ির করিডোর থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।