নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নাব্যতা কাটিয়ে পদ্মা সেতুতে বসলো ১৫তম স্প্যান। ৩ মাস ২৫ দিন পরে পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো ২২৫০ মিটার। স্প্যান নিয়ে যাওয়ার ৮দিন পরে সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যানটি।

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সেতুর জাজিরা প্রান্তের ২৩ ও ২৪ নং পিলারের উপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘের স্প্যানটি বসানো হয়। গত ১৪ অক্টোবর স্প্যানটি বসানোর কথা থাকলেও নাব্য সংকট ও আবহাওয়া বিরূপ থাকার কারণে বসাতে পারেনি। নাব্য সংকট না থাকা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় স্প্যানটি আজ বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এর আগে সেতুর ১৪তম স্প্যানটি গত ২৭ জুন বসানো হয়েছিল।
সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর পিলারের উপর এ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো সোয়া দুই কিলোমিটার। নদীর তলদেশে পলি কমে এলে আগামী দিনগুলোতে কাজের গতি বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রকল্প পরিচালক।

প্রাথমিকভাবে একটি স্প্যান বয়ে নিয়ে পিলারের উপর তুলতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়া হলেও এবার নদীর তলদেশে পলির কথা বিবেচনায় রেখে সময় নেয়া হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু এত লম্বা সময়ের প্রয়োজন হবে সেটা ধারণায় ছিল না প্রকৌশলীদের। সেতুর কাজে ব্যবহৃত ৩টি ড্রেজার কাজ করেছে ২৪ ঘণ্টা। নদীর তলদেশ থেকে পলি কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে ক্রেন চলার পথ। কিন্তু তাতেও পর্যাপ্ত গভীরতা তৈরি করা যাচ্ছিল না। তাই বাড়তে থাকে অপেক্ষার প্রহর।

গত ১৪ তারিখ জাজিরা থেকে স্প্যান নিয়ে রওনা দেয়ার পর দীর্ঘ সময় ক্রেনেই ঝুলিয়ে রাখা হয় স্প্যানটি। আগের স্প্যানটির সঙ্গে নতুন স্প্যান জোড়া দিতে যে র‌্যাফটিং ক্রেন ব্যবহার করা হয় সেটিও বহন করে নেয়া যাচ্ছিল না নির্ধারিত পিলারের কাছে। এর আগেও নাব্য সঙ্কটের কারণে দ্বিতীয় স্প্যান বসাতে বাড়তি একদিন সময় লেগেছিল। কিন্তু এবার লাগল প্রায় এক সপ্তাহ। অবশেষে সমাধান আসায় মিলেছে স্বস্তি। হঠাৎ পদ্মায় বেড়ে যাওয়া পানি বয়ে এনেছে এ পলি। এমনিতে প্রতি সপ্তাহে নদীর তলদেশে জমে ৫ থেকে ৮ ফুট পলি। ড্রেজিং করে এ পলি সরিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে সেতু কর্তৃপক্ষকে।