গাজীপুরে পৃথক ঘটনায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় দু’কারাগারে নারীসহ দু’বন্দি বৃহষ্পতিবার মারা গেছেন। তারা দু’জনই পৃথক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান জানান, এ কারাগারে বন্দি সমিজ উদ্দিন (৫২) বৃহষ্পতিবার সকালে কারাগারের ভিতর হঠাৎ বুকে ব্যথাসহ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এসময় তাকে প্রথমে কারা হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অসস্থায় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার সালেঙ্কা এলাকার শাহের আলীর ছেলে। বেলকুচি থানার একটি হত্যা মামলার আসামী সমিজ উদ্দিনকে আদালত ২০১০সালে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্ত সমিজ উদ্দিন ২০১২সাল থেকে এ কারাগারে বন্দি থেকে সাজাভোগ করছিলেন।

এদিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার উম্মে সালমা জানান, এ কারাগারে মালেকা ওরফে মালা (৪১) বৃহষ্পতিবার দুপুরে কারাগারের ভিতর হঠাৎ বুকে ব্যথাসহ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এসময় তাকে প্রথমে কারা হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা এলাকার হযরত আলীর মেয়ে। মালেকা ২০০১ সালের নারী ও শিশু দমন আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে সাজাভোগ করছিলেন। তাকে ২০১৬ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হতে এ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. প্রণয় ভূষণ দাস জানান, আসামী মালেকা ওরফে মালাকে নিয়ে এ হাসপাতালে পৌছার পূর্বেই মারা যান। অপর আসামী সমিজ উদ্দিনকে এ হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার মোঃ শাহজাহান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দু’টি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।