সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা আমাদের বড় সঙ্কট। সড়ক-মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। এটাই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সড়ক পরিবহন আইনটাও সেজন্যই করা হয়েছে। দেশের সড়কে অবকাঠামোগত কোন সমস্যা এখন নেই। তাই এখন আমরা আটঘাট বেঁধেই নেমেছি। শৃঙ্খলা না থাকলে উন্নয়নের কোন দাম নেই।

সেতুমন্ত্রী শুক্রবার সকালে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের সফিপুরে নির্মানাধীন ফ্লাইওভার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। পরিদর্শন কালে মন্ত্রীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, যারা ভালো মানুষ, শিক্ষিত মানুষ, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য তারা দলের নেতৃত্বে আসতে পারে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ক্লিন ইমেজের লোক আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী নয়, তাদের আমরা স্বাগত জানিয়েছি। সাম্প্রদায়িক শক্তি থেকে যারা আসে, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চিহ্নিত ভূমি দস্যু, যাদের ইমেজ খারাপ যাদের রাজনীতি জনগণের কাছে খারাপ, এরাই অনুপ্রবেশকারী।

তিনি বলেন, সমাজে যাদের গ্রহণ যোগ্য তা রয়েছে, যারা শিক্ষিত ও ভাল মানুষ তাদেরকে অনুপ্রবেশকারী বলবো না। তারা অন্য দল করেও আসতে পারে। তবে যারা আচমকা দলে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামীলীগার সেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদেরকে কোনভাবেই দলে রাখা যাবে না। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীসহ সাম্প্রদায়িক দল থেকে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এ তালিকায় দেড় হাজারের মতো অনুপ্রবেশকারীর নাম রয়েছে। আমরা সেই তালিকা বিভাগীয় পর্যায়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের কাছে হস্তান্তর করেছি। সারা দেশে নতুন করে যে সম্মেলন হচ্ছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসছে। নতুন নেতৃত্বে যাতে অনুপ্রবেশকারী তথা বিতর্কিত ও অপকর্মকারী লোকজন আওয়ামীলীগের কোন পর্যায়ে নেতৃত্ব গ্রহণ করতে না পারে। এ ব্যপারে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন নিয়ে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য, এটি আমাদের চ্যালেঞ্জ। সড়ক নিরপাত্তা আইনটিও সেইজন্য। বহু প্রতীক্ষিত এ আইনটি আজ থেকে কার্যকর শুরু হয়েছে। তবে এটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হতে একটু সময় লাগবে। বিশ^ব্যাংক আমাদেরকে একটি প্রকল্প দিচ্ছে। আমরা এজন্য সর্বোতভাবে আটঘাট বেঁধে নেমেছি। শৃঙ্খলা আমাদের বড় সঙ্কট, দেশের সড়কের কোথাও অবকাঠামোগত কোন সমস্যা নেই, যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। শৃঙ্খলা না থাকলে উন্নয়নের কোন দাম নেই।