চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন বর্তমান কমিটির শীর্ষ চার নেতা। তাদের স্থানে অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নতুন চার নেতা পদ পেতে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, চলতি মাসে আওয়ামী লীগের দুটি সহযোগী ও একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শীর্ষ দুই নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন নতুনরা। বাদ পড়েছেন পুরনো ও বিতর্কিতরা। দলটির নেতারা বলছেন, এটা একটা বড় বার্তা আমাদের দলের বিতর্কিত নেতাদের জন্য। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে। মহানগরে যেসব নেতা পদ পেয়েও সক্রিয় ছিলেন না সংগঠনে তারা বাদ পড়বেন। যাদের নামে কমিটি বাণিজ্য এবং দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে, তারাও বাদ পড়বেন মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহানগর আওয়ামী লীগের বিষয়ে একটি গাইডলাইন দিয়েছেন দলটির দুই সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ও সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব) মুহম্মদ ফারুক খানকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে তারা সম্ভাব্য শীর্ষনেতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, দলের অন্যান্য ইউনিটের মতো ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগেও প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হবে। শীর্ষনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, বিতর্কমুক্ত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, দলের জন্য অবদান এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ চার পদেই নতুন মুখ আসতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উত্তরের সভাপতি এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এবং দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত বাদ পড়তে পারেন বয়সের কারণে। তারা সংগঠনে তেমন একটা সময় দিতে পারছেন না বয়স বেশি হওয়ায় বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। অন্যদিকে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং শাহে আলম মুরাদ বাদ পড়তে পারেন বিতর্কের কারণে। তবে একেএম রহমতউল্লাহ, আবুল হাসনাত, সাদেক খান এবং শাহে আলম মুরাদ প্রত্যেকেই চাচ্ছেন স্বপদে বহাল থাকতে। এ জন্য তারা নিজ নিজ বলয়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার আনুকূল্য লাভে সক্ষম হলে শেষমুহূর্তে টিকে যেতে পারে চারজনের মধ্যে দু-একজনের পদ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজনের নাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের (ডিএসসিসি) ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু আহমেদ মান্নাফি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আখতার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং ডিএসসিসির ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর বিন আজিজ ওরফে তামিম আজিজ প্রমুখ। তবে সভাপতি পদে আবুল হাসনাতকে আবারও বহাল রাখার পক্ষেও একটা মত রয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগে। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও রাজধানীর ধানম-ি এলাকার সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকেও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষপদে দেখতে চান অনেকে। তবে আইনজীবী পরিষদ, না মহানগর আওয়ামী লীগ কোনটাতে বেশি আগ্রহী ফজলে নূর তাপস তা জানা যায়নি।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি ও হাবিব হাসান। বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ হলেও আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আজিজুল হক রানা।
আওয়ামী লীগের এক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষপদে বসানো হবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে দলে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।