যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশিত বই “আর্থ হিরোজ: টোয়েন্টি ইন্সপায়ারিং স্টোরিজ অব পিপল সেভিং আওয়ার ওয়ার্ল্ড”-তে “আর্থ হিরো” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে তরুণ বাংলাদেশি স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ানকে। বইটি লিখেছেন বিখ্যাত লেখক ও ফটোগ্রাফার লিলি দিয়্যু। নৌকায় ভাসমান স্কুল উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ এই সম্মাননায় ভূষিত হলেন তিনি। ২০০২ সালে স্কলারশিপ থেকে পাওয়া ৫০০ ডলার দিয়ে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নিজ গ্রাম সিধুলাইয়ে ভাসমান স্কুলের যাত্রা শুরু করেছিলেন রেজওয়ান। উদ্দেশ্য ছিল বন্যার সময় দুর্গত এলাকার শিশুদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়।

সাধারণ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মতোই নৌকার ভেতরে শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার সবকিছুই আছে৷ বরং এ নৌকা স্কুল সেখানকার ভূমিতে স্থাপন করা অন্যান্য স্কুলের চেয়ে আরও বেশি আধুনিক৷ এ স্কুল কম্পিউটারসহ শিক্ষায় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক অনেক ডিভাইসে সুসজ্জিত৷ স্কুলের ছাদে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল৷ এই বিদ্যুতে সন্ধ্যার পরও স্কুলের কার্যক্রম চালানো যায়, গ্রামেও আলো দেওয়া যায়৷ ইতোমধ্যে রেজওয়ানের ভাসমান স্কুল প্রশংসিত হয়েছে পৃথিবীজুড়ে। অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে। এই স্কুলের মডেল প্রদর্শিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রদর্শনী “ডিজাইন উইথ আদার ৯০%” এবং বিল অ্যান্ড মেলানিয়া গেটস ফাউন্ডেশনে। এছাড়া, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত স্থাপনা বিষয়ক প্রদর্শনী “বেঙ্গল স্ট্রিম”-এ ও প্রদর্শিত হয়েছে তার স্কুলের মডেল।

রেজওয়ানকে “আর্থ হিরো” আখ্যা দেওয়া বইয়ের লেখক দিয়্যু বলেন, “পানির স্তর বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত হতে যাচ্ছে পৃথিবীব্যাপী কোটি কোটি মানুষ। তাই বাংলাদেশের মতো ছোট কিন্তু প্রাণবন্ত দেশের দূরদর্শী স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ানের এই উদ্যোগ অন্যান্য দেশগুলোকে অনুপ্রাণিত করবে।”