হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এর ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আম্বিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে পরিক্ষার অতিরিক্ত ফি আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত প্রধান শিক্ষক চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তারিখে যোগদানের পর বিদ্যালয়টিতে চালু করে বসেছে নতুন নিয়ম।

ধারাবাহিকভাবে ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষার মত এবারও বার্র্ষিক পরিক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় করে চলেছে। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকচারুকারু পরিক্ষার ইস্যুকে পুজি করে এ রকমের অনৈতিক কাজটি করে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে চরম অসস্তোষ বিরাজ করছে। তবে ওই বিদ্যালয়ে চলমান এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

জানা যায়, চসিকের পাঁচলাইশ থানাধীন উক্ত বিদ্যালয়ে অগামী ১০ ডিসেম্বর হতে ১ম থেকে ৪র্থ শ্রেণির বার্ষিক পরিক্ষা শুরু হবে। পরিক্ষায় খরচ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিস নিদের্শনা থাকা শর্তেও দ্বিগুণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ সুযোগে প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক গরীব ও অসহায় শিক্ষার্থীসহ সকলের কাছ থেকে নানা কৌশলে হাজার হাজার টাকা অর্থ বাণিজ্য করছে বলে জানা গেছে। অথচ নিয়ম মোতাবেক চলমান বার্ষিক পরিক্ষায় ১ম শ্রেণি থেকে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভেদে ১০টাকা থেকে ২৫টাকা সর্বোচ্চ পরিক্ষা ফি আদায় করা যাবে। তবে বার্ষিক পরিক্ষায় ফি বাবদ এসব অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা অফিসের নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না দ্বিগুণ হারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় করেছেন শিক্ষকরা। চলতি মাসের ২৭ তারিখ থেকে বার্ষিক পরিক্ষার ফি আদায় শুরু হয়। বার্ষিক পরিক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১ম শ্রেণিতে ১০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা, ২য় শ্রেণিতে ১৫ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা, ৩য় শ্রেণিতে ২৫ টাকার পরিবর্তে ৫৫ টাকা ও ৪র্থ শ্রেণিতে ৩৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের এ রকমের অনৈতিক কাজটির কারণে সরকারের ভাবমূর্তিতে বেশ প্রভাব পড়ছে।

উক্ত বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক রেখা প্রভা শীল এর চাহিদা মত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না বলে ভয়ভীতির পাশাপাশি হুমকিও দিচ্ছে। তাই আমরা নিরুপায় হয়ে দিচ্ছি। এরআগে ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষককের চাহিদা মত টাকা না দেয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও পরিক্ষা দিতে পারেনি। এছাড়া তার (প্রধান শিক্ষক) চাহিদা মত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গালমন্দও করে। এরমধ্য তিনি প্রতিদিন দেরিতে বিদ্যালয়ে আসেন এবং বিকাল ৩টা না বাজতে চলে যেতে দেখা যায়। একটা ক্লাসেও তিনি কিন্তু নেন না।
গত মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বিষয়টির সত্যতা জানতে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক রেখা প্রভা শীলকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়। এরপর তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিক্ষার অতিরিক্ত ফি নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চারুকারু পরিক্ষার জন্য কিছু অতিরিক্ত ফি নেয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, আমি দূনীতি করি না। এসব অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়ের জন্য কিছু সরঞ্জাম ক্রয় করি। আমি নিজে খাবও না। তবে এর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের অনুমতি

নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেন নি।
বিষয়টি নিয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল হামিদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেককে বলেন, পরিক্ষায় বাড়তি ফি আদায়ের ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তাছাড়া নির্ধারিত ফির বেশি নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এড়াছা বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি।