সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল- বিশৃঙ্খলাকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।তিনি বলেছেন, সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন না আসায় বৃহস্পতিবার তার জামিন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ।আদালত ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ রাখলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ওই তারিখ এগিয়ে আসার দাবিতে হট্টগোল শুরু করেন।

প্রায় তিন ঘণ্টা তারা আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অবস্থান নিয়ে থেকে তারা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। এ সময় আদালতকক্ষ থেকে বের হতে বা নতুন করে কাউকে ঢুকতে বাধা দেন তারা। এজলাস কক্ষেই তারা স্লোগান দেন- উই ওয়ান্ট জাস্টিস, বেইল ফর খালেদা জিয়া।কয়েকবার চেষ্টার পরও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা শান্ত না হওয়ায় বিচারকরা সকাল ১০টায় এজলাস থেকে নেমে যান। ফলে আপিল বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বিচারকরা এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যেই আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও মুরাদ রেজা, আইনজীবী ফজলে নূর তাপস, আব্দুল মতিন খসরু, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম আমিন উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে তারা মিছিলও করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় বিচারকরা এজলাসে ফিরে বিচারকাজ শুরু করলেও বিশৃঙ্খলার কারণে শেষ পর্যন্ত আর কোনো মামলার কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা নজিরবিহীন। আমি এর আগে আদালতের এই পরিস্থিত দেখিনি।লম্বা সময় এজলাসে অপেক্ষা করেও বিশৃঙ্খলার কারণে বিচার কার্যক্রম চালাতে না পেরে বেলা সোয়া ১টার দিকে এজলাস ছাড়েন বিচারকরা। এরপর বিএনপিনন্থি আইনজীবীরাও স্লোগান দিতে দিতে ধীরে ধীরে আদালত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের এই আচরণকে ন্যক্কারজনক হিসেবে বর্ণনা করে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।অন্যদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ দাবি করেন, আইনজীবীরা ক্ষোভ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করেছেন।

আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির পর খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা।