চলতি শীত মৌসুমে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গতকাল রবিবার সকালে তাপমাত্রা নেমেছিল ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর টানা চার দিনই পঞ্চগড়ে সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। শনিবার কিছুটা বাড়লেও রবিবার আবারও তলানিতে নামে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পঞ্চগড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও রবিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে। ফলে ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল গোটা এলাকা। তবে সকাল ৯টার পর ঝলমলে রোদ কিছুটা স্বস্তি দিলেও উত্তরের হিমেল বাতাসে বেশ দুর্ভোগেই আছে নিম্নআয়ের মানুষ। বেশি সমস্যায় পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। দৈনন্দিন আয় কমে গেছে রিকশা-ভ্যানচালক ও দিনমজুরদের।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল ১০টার পর নীলফামারীতে সূর্যের দেখা মিললেও কমেনি শীতের তীব্রতা। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা। শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে

জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রমতে, গতকাল সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, টানা পাঁচ দিনের শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দৌলতখান উপজেলায়। কনকনে ঠা-ায় কাজে যেতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধারা আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর, ডায়রিয়াসহ নানা শীতজনিত রোগে। দৌলতখান হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার

অচিন্ত কুমার ঘোষ জানান, পাঁচ দিনের শীতে ৩০৬ শিশু ঠা-াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে প্রায় ২৮০ শিশু চলে গেছে। বাকিরা গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।